ব্যবহার
লিনসিড অয়েল (তিসির তেল) তিসি গাছের বীজ থেকে তৈরি হয়। ঔষধে এটি মূলত ত্বকে লাগানোর ব্যথানাশক জেল ও স্প্রের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সাধারণত ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক এবং মিথাইল স্যালিসিলেট ও মেনথলের মতো গরম বা ঠান্ডা অনুভূতি দেওয়া উপাদানের সাথে। এসব পণ্য মাংসপেশির ব্যথা, মচকানো, টান লাগা, কোমর ব্যথা, ঘাড় শক্ত হওয়া ও হালকা গিঁটের ব্যথার স্বল্পমেয়াদি উপশমে ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
লিনসিড অয়েলে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড নামের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রচুর থাকে, যার হালকা প্রদাহনাশক গুণ আছে। জেলে এটি ত্বক নরম করে এবং অন্য সক্রিয় উপাদানকে ছড়িয়ে ত্বকে প্রবেশে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। মিশ্র পণ্যে মূল ব্যথা উপশম আসে প্রদাহনাশক ঔষধ ও গরম-ঠান্ডা উপাদান থেকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। সাধারণত দিনে ৩ থেকে ৪ বার অল্প জেল বা কয়েকবার স্প্রে ব্যথার জায়গায় আলতো করে মাখানো হয়। হাতে চিকিৎসা না করলে পরে হাত ধুয়ে ফেলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ৭ থেকে ১৪ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই ধরনের ব্যথার ট্যাবলেট (যেমন আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন, এসপিরিন) বা ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে দীর্ঘদিন বড় জায়গায় ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। একই জায়গায় একসাথে অন্য ত্বকের পণ্য লাগাবেন না।
কারা খাবেন না
- তিসি বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- এসপিরিন বা অন্য প্রদাহনাশক ব্যথানাশকে অ্যালার্জি বা হাঁপানি হলে (মিশ্র পণ্যের ক্ষেত্রে)
- কাটা, সংক্রমিত বা একজিমাআক্রান্ত ত্বক, চোখ ও শ্লেষ্মাঝিল্লিতে
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে (ডাইক্লোফেনাক বা স্যালিসিলেটযুক্ত পণ্য)
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর জায়গায় লালভাব, চুলকানি, গরম ভাব, জ্বালা বা র্যাশ হতে পারে। কিছু উপাদানের কারণে ত্বক রোদের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে।
ব্যবহারের পর শোঁ শোঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, অথবা তীব্র বা ফোসকাযুক্ত র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাইক্লোফেনাক বা স্যালিসিলেটযুক্ত মিশ্র পণ্য গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না, এবং এর আগে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অল্প জায়গায় অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন, স্তনে কখনো নয়।
সতর্কতা
আঁটসাঁট ব্যান্ডেজে ঢাকবেন না বা হিটিং প্যাডের সাথে ব্যবহার করবেন না। লাগানো ত্বকে কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। চোখ থেকে দূরে রাখুন। লেবেলে অনুমতি না থাকলে শিশুদের জন্য নয়। এক সপ্তাহের বেশি ব্যথা থাকলে বা ফোলা, লালভাব বা জ্বর হলে চিকিৎসক দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি ব্যবহার করলে স্থানীয় জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে। গিলে ফেললে, বিশেষ করে শিশু, চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করুন, কারণ স্যালিসিলেটযুক্ত পণ্য ক্ষতিকর হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে লাগানোর ব্যথানাশক উপাদান (উদ্ভিজ্জ তেল)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। স্প্রে দাহ্য: আগুন থেকে দূরে রাখুন এবং ফুটো করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।