ব্যবহার
লাইপেজ একটি হজমের এনজাইম, যা খাবারের চর্বি ভাঙে। পেপসিন, প্যানক্রিয়াটিন ও সেলুলেজের সাথে মিশ্র হজমের এনজাইমে এটি বদহজম, পেট ফাঁপা এবং তৈলাক্ত খাবারের পর ভারী লাগা কমাতে ব্যবহার করা হয়। অগ্ন্যাশয় (প্যানক্রিয়াস) যথেষ্ট এনজাইম তৈরি না করলে যে এনজাইম প্রতিস্থাপন চিকিৎসা দেওয়া হয়, লাইপেজ তার প্রধান অংশ, তবে সে চিকিৎসা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হতে হয়।
কীভাবে কাজ করে
লাইপেজ খাবারের চর্বিকে (ট্রাইগ্লিসারাইড) ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে ভাঙে, যা ক্ষুদ্রান্ত্র শোষণ করতে পারে। লাইপেজ কম থাকলে চর্বি হজম না হয়ে চলে যায়, ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং ফ্যাকাশে, তৈলাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পায়খানা হতে পারে। খাবারের সাথে লাইপেজ নিলে তা শরীরের নিজস্ব এনজাইমের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন, সাধারণত চর্বিযুক্ত খাবার বা নাশতার সাথে বা ঠিক পরে। অগ্ন্যাশয়ের অপর্যাপ্ততায় মাত্রা পণ্যের শক্তি ও খাবারের চর্বির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে, যা চিকিৎসক ঠিক করে দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড একই সময়ে খেলে কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা কমতে পারে।
- লাইপেজযুক্ত পণ্য ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন সাপ্লিমেন্টের শোষণ সামান্য কমাতে পারে।
- ডায়াবেটিসের অ্যাকারবোজ বা মিগলিটলসহ সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান, কারণ কিছু পণ্যের অন্য এনজাইম এগুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
- লাইপেজ বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, এনজাইমটি শূকর থেকে তৈরি হলে শূকরজাত পণ্যে অ্যালার্জিসহ।
- তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিস বা দীর্ঘমেয়াদি প্যানক্রিয়াটাইটিস হঠাৎ বেড়ে গেলে, চিকিৎসক অন্যভাবে না বললে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ মানুষের কোনো সমস্যা হয় না। পেটের অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, আর পাউডার মুখে রেখে দিলে মুখে জ্বালা হতে পারে। দীর্ঘদিন খুব বেশি মাত্রায় প্যানক্রিয়াটিক এনজাইম নিলে অন্ত্র সরু হয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে, মূলত সিস্টিক ফাইব্রোসিসের রোগীদের মধ্যে।
অ্যালার্জির লক্ষণ (র্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট), পেটে তীব্র ব্যথা বা ফুলে যাওয়া, অথবা থামছে না এমন বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
লাইপেজ অন্ত্রের ভেতরে কাজ করে এবং শিশুর ক্ষতি করবে বলে মনে করা হয় না, তবে তথ্য সীমিত। গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- দীর্ঘদিনের বদহজম, তৈলাক্ত পায়খানা বা ওজন কমে গেলে চিকিৎসক দেখান, কারণ এগুলো অগ্ন্যাশয়, যকৃৎ বা অন্ত্রের রোগের লক্ষণ হতে পারে।
- এন্টেরিক কোটেড পণ্য চিবাবেন না বা গুঁড়া করবেন না, আর পাউডার মুখে রেখে দেবেন না।
- এনজাইম খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ডায়রিয়া, পেটব্যথা বা বমি বমি ভাব হতে পারে, আর খুব বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে। উপসর্গ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
হজমের এনজাইম (চর্বি ভাঙার এনজাইম)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।