ব্যবহার
লিকুইড প্যারাফিন একটি খনিজ তেল, যার দুটি প্রধান ব্যবহার আছে। মুখে খাওয়ার জন্য সাধারণত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইডের সাথে মিশিয়ে অল্প সময়ের কোষ্ঠকাঠিন্যে ও মল নরম করতে ব্যবহার হয়, যেমন অপারেশনের পর বা পাইলস ও এনাল ফিশারের রোগীদের। ত্বকে লাগানোর জন্য, প্রায়ই হোয়াইট সফট প্যারাফিনের সাথে, এটি একজিমা, সোরিয়াসিস ও ইকথায়োসিসের মতো শুষ্ক, খসখসে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
মুখে খেলে এটি মলকে আবরণ দিয়ে নরম করে এবং অন্ত্রকে পিচ্ছিল করে, ফলে মল সহজে বের হয়। ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইডের সাথে থাকলে ম্যাগনেসিয়াম অন্ত্রে পানি টেনে আনে এবং হালকা জোলাপের কাজ করে। ত্বকে এটি পাতলা তেলের স্তর তৈরি করে পানি বের হতে দেয় না, ফলে ত্বক নরম থাকে ও চুলকানি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- মুখে, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ১০ থেকে ২০ ml, অথবা মিশ্র ঔষধের লেবেলে লেখা নিয়মে। শুয়ে পড়ার ঠিক আগে খাবেন না এবং খাবারের সাথে খাবেন না।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। ৩ বছরের কম বয়সী শিশুকে মুখে খাওয়ানো যাবে না।
- মুখে খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। কোষ্ঠকাঠিন্য ১ সপ্তাহের বেশি থাকলে ডাক্তার দেখান।
- ত্বকে: শুষ্ক ত্বকে যতবার দরকার ভালো করে লাগান, গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতে লাগালে বেশি উপকার।
খাওয়ার ইমালশন বা সাসপেনশন ব্যবহারের আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘদিন মুখে খেলে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (এ, ডি, ই ও কে) এবং কিছু ঔষধের শোষণ কমে যায়। ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইডযুক্ত ঔষধ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও টেট্রাসাইক্লিন), আয়রন ও থাইরয়েডের ঔষধের শোষণ কমাতে পারে, তাই অন্য ঔষধ অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে খান। ত্বকের ঔষধে সাধারণত অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া হয় না।
কারা খাবেন না
- অন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে, অজানা কারণে তীব্র পেটব্যথা বা বমি হলে, অথবা অ্যাপেন্ডিসাইটিসে।
- ৩ বছরের কম বয়সী শিশু (মুখে খাওয়া)।
- যাদের গিলতে অসুবিধা হয় বা যে বয়স্করা শয্যাশায়ী, কারণ তেল শ্বাসের সাথে ফুসফুসে চলে যেতে পারে।
- ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইডযুক্ত ঔষধের ক্ষেত্রে কিডনির গুরুতর রোগ থাকলে।
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মুখে খেলে: মলদ্বার দিয়ে তেল চুইয়ে পড়া, মলদ্বারে চুলকানি, হালকা পেট মোচড়ানো ও পাতলা পায়খানা। দীর্ঘদিন খেলে ভিটামিনের ঘাটতি হতে পারে। তেল ফুসফুসে গেলে এক ধরনের নিউমোনিয়া হতে পারে। ত্বকে: কদাচিৎ জ্বালা, লোমকূপ বন্ধ হওয়া বা ব্রণ।
তীব্র পেটব্যথা, মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া, বারবার বমি, অথবা মুখে খাওয়ার পর কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত মুখে খাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ভিটামিনের শোষণ কমে; উপযুক্ত জোলাপের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ত্বকের ঔষধ গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ।
সতর্কতা
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন মুখে খাবেন না। বয়স্ক ও কিডনির সমস্যা থাকা রোগীরা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত ঔষধ সাবধানে ব্যবহার করবেন। আগুনের ঝুঁকি: প্যারাফিনযুক্ত ত্বকের ঔষধে ভেজা কাপড়, বিছানার চাদর ও ব্যান্ডেজে সহজে আগুন ধরে যেতে পারে, তাই আগুন থেকে দূরে থাকুন, ধূমপান করবেন না এবং কাপড় ঘন ঘন বদলে ধুয়ে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মুখে বেশি খেলে পাতলা পায়খানা, পেট মোচড়ানো ও তেল চুইয়ে পড়া হতে পারে। ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত ঔষধ খুব বেশি খেলে, বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে, দুর্বলতা বা ঝিমুনি হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পিচ্ছিলকারী জোলাপ (মুখে খাওয়া); ইমোলিয়েন্ট বা ত্বক নরমকারী (ত্বকে লাগানো)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। খাওয়ার ইমালশন ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।