ব্যবহার
লিকুইড সুগার হলো পানিতে দ্রবীভূত সুক্রোজ বা গ্লুকোজের ঘন, ঘনীভূত চিনির সিরাপ। ঔষধে এটি মূলত সিরাপের মিষ্টি ভিত্তি (বাহক) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে অনেক কাশির ও ভেষজ সিরাপ রয়েছে; এতে স্বাদ ভালো হয় এবং অন্য উপাদান মিশে থাকে। ঘন চিনির সিরাপ গলার জ্বালাপোড়া ও খুসখুসে ভাবের ওপর প্রলেপ দিয়ে অল্প সময়ের জন্য শুকনো কাশি কমাতে পারে। রক্তে শর্করা কমে গেলে এটি দ্রুত শক্তিও দেয়।
কীভাবে কাজ করে
চিনি মিষ্টি স্বাদ ও ঘনত্ব দেয়, যা তেতো স্বাদ ঢেকে দেয়। ধীরে গিললে সিরাপ গলার ওপর পাতলা আরামদায়ক প্রলেপ তৈরি করে (ডিমালসেন্ট প্রভাব) এবং লালা বাড়ায়, যা কাশির তাড়না কমাতে পারে। চিনি অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে শরীরে শক্তি জোগায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কোনো তৈরি সিরাপের অংশ হলে সেই পণ্যের লেবেলে লেখা মাত্রায় খান। প্রাপ্তবয়স্কদের আরামদায়ক সিরাপ হিসেবে সাধারণত ৫ ml থেকে ১০ ml দিনে ৩ থেকে ৪ বার পর্যন্ত, লেবেলের নির্দেশমতো। সাথে দেওয়া মাপার কাপ বা চামচ ব্যবহার করুন। রাতের মাত্রার পর দাঁত রক্ষায় মুখ কুলি করুন বা দাঁত ব্রাশ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লিকুইড সুগারের অন্য ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া নেই। তবে এটি চিনি ও ক্যালরি যোগ করে, ফলে যাঁরা ইনসুলিন বা মেটফরমিন, গ্লিক্লাজাইডের মতো ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট খান তাঁদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
- সিরাপে সুক্রোজ থাকলে বংশগত ফ্রুক্টোজ অসহিষ্ণুতা, গ্লুকোজ গ্যালাক্টোজ ম্যালঅ্যাবজর্পশন বা সুক্রেজ আইসোমল্টেজ ঘাটতি (বিরল বংশগত শর্করা রোগ) থাকলে।
- ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, ডাক্তার না বললে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। বেশি বা ঘন ঘন খেলে দাঁতের ক্ষয়, পেটের সমস্যা, পাতলা পায়খানা, ওজন বৃদ্ধি এবং ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করা খুব বেড়ে গিয়ে প্রচণ্ড পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ঝিমুনি বা বিভ্রান্তি হলে, অথবা কাশি ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে, কাশির সাথে রক্ত গেলে বা উচ্চ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্বাভাবিক পরিমাণে চিনির সিরাপ গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টি সিরাপ সীমিত করুন। তৈরি সিরাপের অন্য উপাদান সম্পর্কে সবসময় ফার্মাসিস্টের কাছে জেনে নিন।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস রোগীদের সিরাপের চিনির হিসাব রাখা উচিত (৫ ml সিরাপে প্রায় ৩ g থেকে ৪ g চিনি থাকতে পারে) অথবা চিনিমুক্ত পণ্য বেছে নেওয়া উচিত। ঘন ঘন খেলে, বিশেষ করে শিশুদের রাতে, দাঁতের ক্ষয় বাড়ে। মধুযুক্ত সিরাপ ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে দেওয়া যাবে না। গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী কাশিতে চিকিৎসার বদলে কাশির সিরাপ ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে খেলে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া ও রক্তে শর্করা বৃদ্ধি হতে পারে। পানি পান করুন; ডায়াবেটিস রোগীরা শর্করা মেপে দেখুন এবং খুব বেশি হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ঔষধ তৈরির মিষ্টিকারক ও সিরাপ ভিত্তি; ডিমালসেন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।