ব্যবহার
লিরাগ্লুটাইড ডায়েট ও ব্যায়ামের সাথে প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ আছে এমন প্রাপ্তবয়স্কদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিও এটি কমায়। লিরাগ্লুটাইডযুক্ত কিছু উচ্চ শক্তির পণ্য আলাদাভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যবহৃত হয়। টাইপ ১ ডায়াবেটিসের জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
লিরাগ্লুটাইড একটি GLP-1 রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট। এটি খাওয়ার পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত প্রাকৃতিক হরমোন GLP-1 এর মতো কাজ করে। রক্তে শর্করা বেশি থাকলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়, গ্লুকাগন (শর্করা বাড়ানো হরমোন) কমায়, পাকস্থলী খালি হওয়া ধীর করে এবং ক্ষুধা কমায়। এতে খাওয়ার পর ও মাঝখানে রক্তের শর্করা কমে এবং ওজন কমতেও সাহায্য করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লিরাগ্লুটাইড দিনে একবার, যেকোনো সময়ে তবে সম্ভব হলে প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের সাথে বা ছাড়া পেট, উরু বা বাহুর উপরের অংশের ত্বকের নিচে ইনজেকশন দিতে হয়। মাত্রা চিকিৎসকের নির্দেশমতো; পেটের অস্বস্তি কমাতে সাধারণত অন্তত এক সপ্তাহ কম মাত্রায় শুরু করে পরে বাড়ানো হয়। চিকিৎসক বা নার্স প্রথমে প্রিফিল্ড পেন ব্যবহার শিখিয়ে দেন, তারপর রোগী বাড়িতে নিজে ইনজেকশন নিতে পারেন। বাদ পড়া ডোজ পূরণের জন্য অতিরিক্ত ডোজ নেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ইনসুলিন ও সালফোনাইলইউরিয়া (যেমন গ্লিক্লাজাইড বা গ্লিমেপিরাইড): রক্তের শর্করা কমার ঝুঁকি বাড়ে; এগুলোর মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- পাকস্থলী ধীরে খালি হওয়ায় কিছু মুখে খাওয়ার ঔষধের শোষণে প্রভাব পড়তে পারে।
- ওয়ারফারিন: শুরুতে ঘন ঘন INR পরীক্ষা লাগতে পারে।
- অন্য GLP-1 রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্টের সাথে ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- নিজের বা পরিবারের কারও মেডুলারি থাইরয়েড ক্যান্সার বা মাল্টিপল এন্ডোক্রাইন নিওপ্লাজিয়া টাইপ ২ (MEN 2) এর ইতিহাস থাকলে।
- লিরাগ্লুটাইড বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, ক্ষুধামন্দা, মাথাব্যথা ও ইনজেকশনের জায়গায় প্রতিক্রিয়া। এগুলো সাধারণত প্রথম কয়েক সপ্তাহে বেশি হয়। বিশেষ করে ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার সাথে রক্তের শর্করা কমে যেতে পারে। কম সাধারণ কিন্তু গুরুতর প্রভাবের মধ্যে আছে অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, পিত্তপাথর ও পিত্তথলির প্রদাহ, পানিশূন্যতাজনিত কিডনির সমস্যা এবং দ্রুত হৃৎস্পন্দন।
পিঠ পর্যন্ত ছড়াতে পারে এমন তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা (বমিসহ বা ছাড়া), জ্বর বা হলুদ ত্বকসহ পেটের ডান দিকের উপরে ব্যথা, ঘাড়ে পিণ্ড বা ফোলা, গিলতে কষ্ট, তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ, অথবা বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হওয়াসহ তীব্র শর্করা কমার ঘটনা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় লিরাগ্লুটাইড ব্যবহার করা উচিত নয়; সাধারণত ইনসুলিন পছন্দ করা হয়। গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে জানান, যাতে চিকিৎসা বদলানো যায়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- বমি বা ডায়রিয়া হলে পানিশূন্যতা ও কিডনির সমস্যা এড়াতে প্রচুর পানি পান করুন।
- আগে প্যানক্রিয়াটাইটিস, পিত্তথলির রোগ, পাকস্থলী বা অন্ত্রের গুরুতর রোগ বা থাইরয়েডের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- শর্করা কমার লক্ষণ ও তার চিকিৎসা জেনে নিন।
- অস্ত্রোপচার বা খালি পেটে করতে হয় এমন পরীক্ষার আগে চিকিৎসক বা অ্যানেসথেটিস্টকে জানান।
- নতুন সুঈ লাগালেও কখনো পেন অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে তীব্র বমিভাব, বমি ও রক্তের শর্করা কমে যেতে পারে। শর্করা কমে গেলে চিনি বা মিষ্টি খান এবং চিকিৎসা সহায়তা নিন; সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসের ঔষধ; গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ (GLP-1) রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট।
সংরক্ষণ
প্রথম ব্যবহারের আগে রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না। প্রথম ব্যবহারের পর আলো থেকে রক্ষার জন্য ক্যাপ লাগিয়ে পেনটি ৩০°C এর নিচে বা রেফ্রিজারেটরে সর্বোচ্চ ১ মাস রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।