বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Lithium Carbonate

  • 5 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 5 টি কোম্পানি

ব্যবহার

লিথিয়াম কার্বোনেট একটি মেজাজ স্থিতিশীলকারক ঔষধ। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ম্যানিয়া ও বিষণ্ণতার পর্ব চিকিৎসা ও প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়। বারবার ফিরে আসা বিষণ্ণতা প্রতিরোধে, কখনো অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্টে ভালো ফল না পেলে তার সাথে যোগ করে, এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সিদ্ধানে কিছু মানুষের আক্রমণাত্মক বা নিজের ক্ষতি করার আচরণ কমাতেও এটি দেওয়া হয়।

কীভাবে কাজ করে

লিথিয়াম ঠিক কীভাবে কাজ করে তা পুরোপুরি জানা নেই। এটি স্নায়ুকোষের ভেতরের কয়েকটি রাসায়নিক সংকেতপথে, যেমন ইনোসিটল ও GSK-3 এনজাইমে, প্রভাব ফেলে এবং সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিনের মতো বার্তাবাহকের ভারসাম্য বদলায়। কয়েক সপ্তাহে এটি মেজাজ স্থির করে এবং ম্যানিয়া ও বিষণ্ণতার পর্বের সংখ্যা ও তীব্রতা কমায়। এটি আত্মহত্যার ঝুঁকিও কমায় বলে মনে হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

চিকিৎসকের নির্দেশ হুবহু মেনে মুখে খান। কম মাত্রায় শুরু করে নিয়মিত রক্তের লিথিয়াম মাত্রা পরীক্ষা (সাধারণত শেষ ডোজের ১২ ঘণ্টা পর) অনুযায়ী চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও রূপ (সাধারণ বা ধীরে নিঃসরণকারী) ভিন্নভাবে লিথিয়াম ছাড়ে, তাই চিকিৎসক ছাড়া ব্র্যান্ড বদলাবেন না। প্রতিদিন একই সময়ে পানি দিয়ে খান এবং লবণ ও পানি গ্রহণ স্থির রাখুন। নির্দেশ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • মূত্রবর্ধক (বিশেষ করে হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড), এনালাপ্রিলের মতো ACE ইনহিবিটর, লোসার্টানের মতো ARB এবং আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাকের মতো NSAID লিথিয়ামের মাত্রা বিষাক্ত পর্যায়ে বাড়াতে পারে।
  • মেট্রোনিডাজোল ও কিছু অ্যান্টিবায়োটিক মাত্রা বাড়াতে পারে।
  • থিওফিলিন, ক্যাফেইন ও সোডিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড মাত্রা কমাতে পারে।
  • SSRI, ট্রামাডল ও ট্রিপটানে সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে; হ্যালোপেরিডলের মতো অ্যান্টিসাইকোটিক স্নায়ুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।

কারা খাবেন না

  • লিথিয়ামে অ্যালার্জি থাকলে।
  • গুরুতর কিডনি রোগ।
  • চিকিৎসাহীন থাইরয়েড কম সক্রিয়তা (হাইপোথাইরয়েডিজম)।
  • উল্লেখযোগ্য হৃদরোগ বা হৃদছন্দের সমস্যা, ব্রুগাডা সিনড্রোম।
  • অ্যাডিসনস ডিজিজ বা সোডিয়াম কম থাকার অবস্থা, তীব্র পানিশূন্যতা।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ: হাতে হালকা কাঁপুনি, পিপাসা, বেশি প্রস্রাব, হালকা বমিভাব, পাতলা পায়খানা, ওজন বাড়া ও মুখে ধাতব স্বাদ, বিশেষ করে শুরুতে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে থাইরয়েড কমে যাওয়া, ক্যালসিয়াম বাড়া ও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে, তাই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হয়।

লিথিয়াম বিষক্রিয়ার লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নিন: তীব্র কাঁপুনি, বমি, ডায়রিয়া, টলমলে হাঁটা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, পেশি ফারকানো, ঝিমুনি বা বিভ্রান্তি, ঝাপসা দেখা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন। বমি, ডায়রিয়া, জ্বর বা অতিরিক্ত ঘামে তীব্র পানিশূন্যতা হলেও সাহায্য নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

লিথিয়াম শিশুর হৃদযন্ত্র গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে গর্ভের শুরুতে, এবং গর্ভের শেষ দিকে ও প্রসবের পর সাবধানে মাত্রা ঠিক করতে হয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে গর্ভধারণের পরিকল্পনা করুন; হঠাৎ বন্ধ করবেন না। লিথিয়াম বুকের দুধে যায় ও শিশুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সাধারণত দুধ খাওয়ানো সুপারিশ করা হয় না, অথবা কঠোর পর্যবেক্ষণে করা হয়।

সতর্কতা

  • নিয়মিত রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা, কিডনি ও থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা এবং ক্যালসিয়াম পরীক্ষা অপরিহার্য।
  • পানিশূন্যতা এড়ান: গরমে, ব্যায়াম বা অসুখের সময় যথেষ্ট পানি পান করুন এবং লবণ গ্রহণ হঠাৎ বদলাবেন না।
  • নতুন ঔষধ, ব্যথানাশকসহ, শুরুর আগে সব চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে লিথিয়াম খাওয়ার কথা জানান।
  • শুরুতে গাড়ি চালানোতে সমস্যা হতে পারে; সাবধান থাকুন।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

লিথিয়ামের নিরাপদ মাত্রার পরিসর খুব সরু। মাত্রাতিরিক্ত হলে বমি, ডায়রিয়া, কাঁপুনি, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, কিডনি বিকল ও কোমা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন; হাসপাতালে তরল ও ডায়ালাইসিস লাগতে পারে।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

মেজাজ স্থিতিশীলকারক (অ্যান্টিম্যানিক)।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুষ্ক ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Lithium Carbonate এর ব্র্যান্ড

5 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।