ব্যবহার
লোমেফ্লক্সাসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। চোখের ড্রপ বা মলম হিসেবে এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত চোখের সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন চোখ ওঠা (চোখ লাল, পিচুটি ও আঠালো ভাব) এবং ব্যাকটেরিয়ার কারণে চোখের পাতার কিনারায় প্রদাহ। ট্যাবলেট হিসেবে এটি প্রস্রাবের নালি ও বুকের কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে দেওয়া হয়, সাধারণত যখন অন্য অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত নয়। ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
লোমেফ্লক্সাসিন ফ্লুরোকুইনোলোন শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিক। ব্যাকটেরিয়া নিজের জিনগত উপাদান কপি করতে যে এনজাইম (ডিএনএ জাইরেজ ও টোপোআইসোমারেজ) ব্যবহার করে, এটি সেগুলো আটকে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- চোখের ড্রপ (0.3%): সাধারণত আক্রান্ত চোখে দিনে ২ থেকে ৩ বার ১ ফোঁটা করে, ৭ থেকে ৯ দিন। প্রথম দিনে ডাক্তার আরও ঘন ঘন দিতে বলতে পারেন। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
- চোখের মলম: নিচের পাতার ভেতরে অল্প পরিমাণে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- ট্যাবলেট: প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে ১ বার 400 mg, ডাক্তার যত দিন বলেন। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নয়।
ব্যবহারের আগে হাত ধুয়ে নিন, ড্রপারের মুখ যেন চোখে না লাগে, আর চোখ ভালো মনে হলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে: অ্যান্টাসিড এবং অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন বা জিংকযুক্ত ঔষধ এর শোষণ কমায়, তাই এগুলোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ ঘণ্টা পরে লোমেফ্লক্সাসিন খান। ওয়ারফারিনের সাথে খেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড ট্যাবলেটের সাথে টেন্ডনের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। ব্যথানাশক এনএসএআইডির সাথে খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে। চোখের ড্রপের প্রতিক্রিয়া খুব কম; অন্য চোখের ড্রপ থাকলে মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন।
কারা খাবেন না
লোমেফ্লক্সাসিন বা অন্য কোনো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকে (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন) এলার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। শিশু ও কিশোর-কিশোরী, এবং আগে কোনো কুইনোলোনে টেন্ডনের সমস্যা হয়েছে এমন ব্যক্তিরা ট্যাবলেট খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চোখের ড্রপ: দেওয়ার পরপর অল্প সময় জ্বালা, লালচে ভাব, চুলকানি বা ঝাপসা দেখা। ট্যাবলেট: রোদে ত্বক খুব সংবেদনশীল হওয়া (রোদে পোড়ার মতো র্যাশ), বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঘুমের সমস্যা। কুইনোলোন ট্যাবলেটে কদাচিৎ টেন্ডনে ব্যথা বা ছিঁড়ে যাওয়া, স্নায়ুর সমস্যা (ঝিনঝিন, অবশ ভাব), হৃৎস্পন্দনের ছন্দে পরিবর্তন, রক্তে শর্করা কমা বা বাড়া এবং মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, সারা শরীরে র্যাশ হলে, হঠাৎ টেন্ডনে (বিশেষ করে গোড়ালিতে) ব্যথা বা ফোলা হলে, বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হলে, অথবা তীব্র পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়। চোখের ড্রপ রক্তে খুব সামান্য যায়, তবুও এ সময় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
ট্যাবলেট খাওয়ার সময় ও তার পরের কয়েক দিন কড়া রোদ ও সানল্যাম্প এড়িয়ে চলুন; সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন ও শরীর ঢেকে রাখুন। মৃগীরোগ, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকলে, অথবা বয়স ৬০ এর বেশি হলে ডাক্তারকে জানান। চোখে সংক্রমণ থাকা অবস্থায় কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না। ২ থেকে ৩ দিনে চোখ ভালো না হলে ডাক্তার দেখান। চোখ ঝাপসা বা মাথা ঘোরালে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ভুল করে চোখের ড্রপের বোতল গিলে ফেললে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বেশি ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, বমিভাব বা খিঁচুনি হতে পারে; সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক (চোখে ও মুখে খাওয়ার জীবাণুনাশক)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখের ড্রপের বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং প্রথম খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।