ব্যবহার
লোপারামাইড ব্যবহার হয়:
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের স্বল্পমেয়াদি (হঠাৎ) ডায়রিয়ায়;
- ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম বা অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগের দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ায়, ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে;
- ইলিওস্টোমি আছে এমন ব্যক্তিদের ঘন ঘন পাতলা মল কমাতে, ডাক্তারের পরামর্শে।
এটি লক্ষণ কমায়, কারণ নয়। ডায়রিয়ায় খাবার স্যালাইন (ওআরএস) দিয়ে হারানো পানি পূরণ করাই সবচেয়ে জরুরি চিকিৎসা।
কীভাবে কাজ করে
লোপারামাইড অন্ত্রের দেয়ালে ওপিওয়েড রিসেপ্টরে কাজ করে। এটি অন্ত্রের নড়াচড়া ধীর করে, ফলে পানি ও লবণ শোষণের জন্য বেশি সময় পাওয়া যায়, এবং মলদ্বারের পেশি শক্ত করে। এতে মল শক্ত হয় ও কম ঘন ঘন হয়। স্বাভাবিক মাত্রায় এটি মস্তিষ্কে কাজ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হঠাৎ ডায়রিয়া, প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি: প্রথমে ৪ mg (২ mg এর ২টি ক্যাপসুল), তারপর প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ২ mg। ২৪ ঘণ্টায় ১৬ mg (৮টি ক্যাপসুল) এর বেশি খাবেন না; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ১২ mg এর মধ্যে রাখাই ভালো। পায়খানা স্বাভাবিক হলে বা ১২ ঘণ্টা পায়খানা না হলে বন্ধ করুন।
ডাক্তার না দেখিয়ে ৪৮ ঘণ্টার বেশি খাবেন না। দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ায় শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। ১২ বছরের কম শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে; ২ বছরের কম শিশুকে কখনোই দেবেন না।
প্রচুর পানি পান করুন এবং হারানো পানি ও লবণ পূরণে ওআরএস খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- যেসব ঔষধ লোপারামাইডের মাত্রা বাড়ায়, যেমন রিটোনাভির, ইট্রাকোনাজল, কিটোকোনাজল, ক্লারিথ্রোমাইসিন, জেমফিব্রোজিল ও কুইনিডিন, এগুলো হৃদস্পন্দনের গোলমালসহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলে এমন অন্য ঔষধ (কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, অ্যান্টিসাইকোটিক ও অ্যান্টিবায়োটিক) এই ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
- অন্ত্র ধীর করে এমন অন্য ঔষধ, যেমন ওপিওয়েড ব্যথানাশক বা অ্যান্টিকোলিনার্জিক, কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- ২ বছরের কম শিশু
- পায়খানায় রক্ত বা উচ্চ জ্বরসহ ডায়রিয়া (আমাশয় হতে পারে)
- অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় বা পরে ডায়রিয়া (অন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে)
- আলসারেটিভ কোলাইটিসের হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
- কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফুলে যাওয়া, বা যখন অন্ত্র ধীর করা যাবে না (যেমন অন্ত্রে বাধা)
- লোপারামাইডে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে গ্যাস, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। কম ক্ষেত্রে: পেটব্যথা বা পেট ফাঁপা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ক্লান্তি ও র্যাশ।
পেট ফুলে যাওয়া বা ব্যথা, পেট ফাঁপাসহ পায়খানা না হওয়া, পায়খানায় রক্ত, জ্বর, অজ্ঞান হওয়া বা দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, অথবা গুরুতর এলার্জি বা ত্বকে ফোসকা হলে ঔষধ বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এড়িয়ে চলুন; ওআরএসই মূল চিকিৎসা। বুকের দুধে সামান্য যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- ডায়রিয়া ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকলে, অথবা রক্ত, উচ্চ জ্বর, তীব্র পেটব্যথা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ (খুব কম প্রস্রাব, মাথা ঘোরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া) দেখা দিলে আরও আগেই ডাক্তার দেখান।
- ছোট শিশু, বয়স্ক ও দুর্বল ব্যক্তিদের পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি।
- লিভারের রোগে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি হতে পারে; গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
- কখনো নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি খাবেন না: বেশি মাত্রায় হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে ঝিমুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রে বাধা, ধীর শ্বাসপ্রশ্বাস (শিশুদের বেশি) এবং হৃদস্পন্দনের গুরুতর গোলমাল হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। হাসপাতালে নালক্সোন ব্যবহার করা হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়রিয়ারোধী ঔষধ (অন্ত্রের গতি কমানোর ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।