ব্যবহার
লরনোক্সিকাম একটি ননস্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID), যা ব্যথা ও ফোলা কমাতে ব্যবহার হয়। এটি দেওয়া হয়:
- অল্প সময়ের জন্য হালকা থেকে মাঝারি ব্যথায়, যেমন অপারেশন বা দাঁতের চিকিৎসার পরে
- অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা ও প্রদাহে
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ব্যথা ও প্রদাহে
কীভাবে কাজ করে
এটি সাইক্লো-অক্সিজিনেজ (COX) নামের এনজাইম আটকে দেয়, যা দিয়ে শরীর প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যথা, ফোলা ও জ্বর ঘটায়, তাই এটি কমলে এসব উপসর্গ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক (ট্যাবলেট):
- হঠাৎ ব্যথা: সাধারণত ৮ mg দিনে দুইবার। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দিনে ১৬ mg এর বেশি খাবেন না।
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: সাধারণত দিনে ১২ mg, দুই বা তিন ভাগে। সর্বোচ্চ দিনে ১৬ mg।
এক গ্লাস পানি দিয়ে গিলে খান; খাবারের সাথে খেলে পেটের অস্বস্তি কম হয়। যত কম মাত্রায় কাজ হয়, তত কম সময়ের জন্য খান। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যাসপিরিনসহ অন্য NSAID এবং প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েডের সাথে পাকস্থলীতে ঘা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
- রক্ত পাতলা করার ঔষধ (ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল) এবং ফ্লুওক্সেটিন ও সারট্রালিনের মতো বিষণ্নতার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- রক্তচাপের ঔষধের (এনালাপ্রিলের মতো ACE ইনহিবিটর, লোসারটানের মতো ARB, প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ) কাজ কমাতে পারে, এবং একসাথে কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- রক্তে লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট ও ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- সিমেটিডিন লরনোক্সিকামের মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- লরনোক্সিকাম বা অন্য কোনো NSAID এ এলার্জি, অ্যাসপিরিন বা অন্য ব্যথানাশকে হাঁপানি, চাকা চাকা র্যাশ বা নাক দিয়ে পানি পড়া হলে
- বর্তমানে বা আগে পাকস্থলী বা ডিওডেনামে ঘা, অথবা পাকস্থলী বা অন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ
- গুরুতর হার্ট ফেইলিউর
- গুরুতর লিভার বা কিডনির রোগ
- রক্তক্ষরণজনিত রোগ
- গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস
- ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা।
নিচের যেকোনোটি হলে ঔষধ বন্ধ করে জরুরি চিকিৎসা নিন:
- কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, অথবা তীব্র পেটব্যথা
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসে শাঁ শাঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট
- বুকে ব্যথা, শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া
- চামড়ায় ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া
- প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া বা পা ফুলে যাওয়া
- ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে ২০ সপ্তাহের পর, এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি শিশুর কিডনি ও হার্টে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে একেবারেই খাওয়া যাবে না। এটি গর্ভধারণ কঠিন করতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সুপারিশ করা হয় না; নিরাপদ ব্যথানাশকের জন্য ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- অন্য NSAID এর মতো এটিও, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বাড়াতে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হাঁপানি, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, বা আগে পাকস্থলীর সমস্যা থাকলে সাবধানে খান।
- বয়স্কদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিশেষ করে পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ, বেশি হয়।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন; পানিশূন্যতায় কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
- মাথা ঘোরাতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা হতে পারে। কদাচিৎ পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ, কিডনির সমস্যা বা খিঁচুনি হতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ননস্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID), অক্সিকাম গোত্র।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।