ব্যবহার
লুবিপ্রোস্টোন প্রাপ্তবয়স্কদের দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য (যার নির্দিষ্ট কারণ জানা নেই), ক্যান্সার নয় এমন দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় অপিওয়েড জাতীয় ব্যথানাশক খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, এবং প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের কোষ্ঠকাঠিন্যসহ ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS-C) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি অন্ত্রের ভেতরের আবরণে ক্লোরাইড চ্যানেল খুলে দেয়। এতে অন্ত্রে বেশি পানি আসে, মল নরম হয়, সহজে সামনে এগোয় এবং নিয়মিত পায়খানা হতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য ও অপিওয়েডজনিত কোষ্ঠকাঠিন্য: সাধারণত ২৪ মাইক্রোগ্রাম দিনে ২ বার।
- নারীদের IBS-C: সাধারণত ৮ মাইক্রোগ্রাম দিনে ২ বার।
ক্যাপসুল খাবারের সাথে পানি দিয়ে পুরোটা গিলে খাবেন, ভাঙবেন বা চিবাবেন না। লিভারের সমস্যা থাকলে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে চিকিৎসক মাত্রা কমাতে পারেন। মাঝে মাঝে চিকিৎসক দেখবেন ঔষধটি আর দরকার আছে কি না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মেথাডোন এবং এ ধরনের কিছু অপিওয়েড লুবিপ্রোস্টোনের কার্যকারিতা কমাতে পারে। অন্য জোলাপ বা ডায়রিয়ার ঔষধসহ যা যা খাচ্ছেন সব চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
এই ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে, অন্ত্রে বাধা (ব্লকেজ) থাকলে বা সন্দেহ হলে, কিংবা তীব্র ডায়রিয়া থাকলে এটি খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা ও গ্যাস সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কারও কারও ডোজ নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ লাগতে পারে, যা সাধারণত কয়েক ঘণ্টায় কমে যায় তবে পরের ডোজে আবার হতে পারে।
তীব্র বা একটানা ডায়রিয়া, প্রচণ্ড পেটব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা না কমা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রাণীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীরা গর্ভধারণ পরীক্ষা নেগেটিভ হলে এবং নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করলে তবেই খাবেন, গর্ভধারণ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানাবেন। বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুর ডায়রিয়া হচ্ছে কি না খেয়াল রাখুন এবং খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
বমি ভাব কমাতে খাবারের সাথে খান। তীব্র ডায়রিয়া হলে পানিশূন্যতা হতে পারে, তাই ঔষধ বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। লিভারের রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। অন্ত্রে বাধা বা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে এটি উপযুক্ত নয়, তাই মলে রক্ত বা ওজন কমার মতো নতুন উপসর্গ হলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; প্রয়োজনে স্যালাইন বা তরলসহ উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্লোরাইড চ্যানেল অ্যাক্টিভেটর (দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্যের জোলাপ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।