ব্যবহার
লুলিকোনাজল ত্বকে লাগানোর একটি ছত্রাকরোধী ঔষধ, ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন:
- অ্যাথলেটস ফুট (টিনিয়া পেডিস), পায়ের আঙুলের ফাঁকের সংক্রমণসহ;
- কুঁচকির দাদ (টিনিয়া ক্রুরিস);
- শরীরের দাদ (টিনিয়া করপোরিস);
- ত্বকের কিছু ইস্ট ও ছত্রাক সংক্রমণ, এবং ডাক্তারের পরামর্শে নখের সলিউশন দিয়ে নখের ছত্রাক সংক্রমণ।
কীভাবে কাজ করে
লুলিকোনাজল একটি অ্যাজোল ছত্রাকরোধী। ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এরগোস্টেরল তৈরিতে যে এনজাইম লাগে, এটি তা আটকে দেয়। ফলে ছত্রাক বাড়তে পারে না এবং মরে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ক্রিম (সাধারণত ১%), প্রাপ্তবয়স্ক: আক্রান্ত ত্বক ও তার চারপাশের প্রায় ২ থেকে ৩ সেমি সুস্থ ত্বকে দিনে একবার পাতলা করে লাগান।
- অ্যাথলেটস ফুট: সাধারণত দিনে একবার করে ২ সপ্তাহ।
- কুঁচকি ও শরীরের দাদ: সাধারণত দিনে একবার করে ১ থেকে ২ সপ্তাহ।
- নখের সলিউশন: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, প্রায়ই কয়েক মাস।
- শিশু: প্রেসক্রিপশন মতো।
আগে জায়গাটি পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন। হাতে সংক্রমণ না থাকলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন। ত্বক ভালো দেখালেও পরামর্শ করা পুরো সময় ব্যবহার করুন, যাতে সংক্রমণ ফিরে না আসে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বক দিয়ে খুব কম শোষিত হয়, তাই খাওয়ার ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একই সময়ে অন্য ক্রিম বা মলম লাগাবেন না।
কারা খাবেন না
- লুলিকোনাজল, অন্য অ্যাজোল ছত্রাকরোধী বা ক্রিমের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা এবং লাগানোর জায়গায় হয়: জ্বালাপোড়া, চুলকানি, লাল হওয়া বা শুকনো ভাব। কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস (এলার্জিজনিত র্যাশ) হতে পারে।
এগুলো হলে ব্যবহার বন্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন: মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, বা ছড়িয়ে পড়া, ফোসকাযুক্ত বা গুরুতর র্যাশ।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খুব কম শোষিত হলেও গর্ভাবস্থায় তথ্য সীমিত, তাই শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ডাক্তার রাজি থাকলে ছোট জায়গায় সাধারণত ব্যবহার করা যায়; স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- শুধু ত্বকে ব্যবহারের জন্য। চোখ, মুখ, নাক ও যোনিপথ থেকে দূরে রাখুন।
- পরামর্শ ছাড়া জায়গাটি টাইট ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকবেন না।
- ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন; প্রতিদিন মোজা ও অন্তর্বাস বদলান এবং তোয়ালে ভাগাভাগি করবেন না।
- ২ সপ্তাহে উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে। ভুলবশত গিলে ফেললে মুখ ধুয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে লাগানোর ছত্রাকরোধী (অ্যাজোল, ইমিডাজল গোষ্ঠী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে রাখবেন না। ব্যবহারের পর টিউবের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।