ব্যবহার
লুমেফ্যানট্রিন একটি ম্যালেরিয়ার ঔষধ। এটি সবসময় আর্টেমেথারের সাথে একই ট্যাবলেটে থাকে এবং প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম জীবাণুর জটিলতাহীন ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, ক্লোরোকুইন প্রতিরোধী ধরনেও। এটি ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে বা মারাত্মক ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় না।
কীভাবে কাজ করে
ম্যালেরিয়ার জীবাণু লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে থেকে হিমোগ্লোবিন হজম করে, এতে হিম নামের একটি বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়। লুমেফ্যানট্রিন জীবাণুকে এই হিম নিরাপদ করতে দেয় না, ফলে জীবাণু নিজেই বিষাক্ত হয়ে মারা যায়। আর্টেমেথার খুব দ্রুত জীবাণুর সংখ্যা কমায়, আর লুমেফ্যানট্রিন রক্তে বেশি সময় থেকে বাকি জীবাণু পরিষ্কার করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
৩৫ kg এর বেশি ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের জন্য প্রচলিত ২০ mg আর্টেমেথার ও ১২০ mg লুমেফ্যানট্রিন ট্যাবলেটে সাধারণ কোর্স হলো প্রতি ডোজে ৪টি ট্যাবলেট, ৩ দিনে মোট ৬ ডোজ: রোগ ধরা পড়লে প্রথম ডোজ, ৮ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় ডোজ, তারপর পরের ২ দিন দিনে ২ বার। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন। প্রতিটি ডোজ চর্বিযুক্ত খাবার বা দুধের সাথে খান, এতে ঔষধ ভালো শোষিত হয়। খাওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে বমি হলে ডোজটি আবার খান। পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হৃৎস্পন্দনের QT সময় বাড়াতে পারে এমন ঔষধ, যেমন কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, কুইনিন, মেফ্লোকুইন, ম্যাক্রোলাইড ও ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক এবং কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, এড়িয়ে চলা বা সাবধানে ব্যবহার করা উচিত।
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জন’স ওয়ার্ট এর কার্যকারিতা কমায়।
- কিটোকোনাজোল ও আঙুরজাতীয় গ্রেপফ্রুটের রস রক্তে এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
- হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলের কার্যকারিতা কমতে পারে; অতিরিক্ত কনডম ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
- লুমেফ্যানট্রিন বা আর্টেমেথারে অ্যালার্জি থাকলে।
- মারাত্মক ম্যালেরিয়ায়।
- QT সময় দীর্ঘ থাকলে, পরিবারে হঠাৎ হৃদরোগে মৃত্যুর ইতিহাস থাকলে, হৃৎস্পন্দনের গুরুতর সমস্যা বা রক্তে পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে।
- গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে, যদি না চিকিৎসক প্রয়োজনীয় মনে করেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণভাবে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, গিঁট ও পেশিব্যথা, কাশি ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এর অনেকগুলো ম্যালেরিয়ার কারণেও হয়।
দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এত বমি যে ঔষধ পেটে থাকছে না, লক্ষণ আরও খারাপ হওয়া, অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি ব্যবহার করা যায়, আর প্রথম ত্রৈমাসিকে চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- চিকিৎসার পর আবার জ্বর এলে পুনরায় পরীক্ষা করান।
- মাথা ঘোরালে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে হৃৎস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন; হৃৎস্পন্দন পর্যবেক্ষণ দরকার হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ম্যালেরিয়াবিরোধী ঔষধ (অ্যারাইল অ্যামাইনো অ্যালকোহল), আর্টেমিসিনিন ভিত্তিক সমন্বিত চিকিৎসায় ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।