ব্যবহার
লাইনেস্ট্রেনল একটি প্রোজেস্টোজেন, অর্থাৎ নারী হরমোন প্রোজেস্টেরনের কৃত্রিম রূপ। এটি ব্যবহার হয়:
- কম মাত্রায় (০.৫ mg) শুধু-প্রোজেস্টোজেন জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি হিসেবে; বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা এবং যারা ইস্ট্রোজেন খেতে পারেন না, তারা প্রায়ই এটি বেছে নেন;
- বেশি মাত্রায়, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, মাসিক ও জরায়ুর কিছু সমস্যায়, যেমন অতিরিক্ত বা অনিয়মিত মাসিক, মাসিকের ব্যথা ও এন্ডোমেট্রিওসিস।
কীভাবে কাজ করে
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি হিসেবে লাইনেস্ট্রেনল জরায়ুমুখের শ্লেষ্মা ঘন করে, ফলে শুক্রাণু সহজে ঢুকতে পারে না; জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ গর্ভধারণের জন্য কম উপযোগী করে; এবং অনেক নারীর ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন বন্ধ রাখে। বেশি মাত্রায় এটি জরায়ুর আস্তরণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে, যা অতিরিক্ত রক্তপাত ও এন্ডোমেট্রিওসিসে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
জন্মনিয়ন্ত্রণ (০.৫ mg ট্যাবলেট): প্রতিদিন একই সময়ে একটি ট্যাবলেট, এক পাতা শেষ হলে বিরতি ছাড়াই পরের পাতা। মাসিকের প্রথম দিন থেকে শুরু করুন। সন্তান জন্মের পর ডাক্তারের পরামর্শমতো শুরু করুন, সাধারণত প্রসবের ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ পর থেকে।
বড়ি বাদ পড়লে: নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ৩ ঘণ্টার বেশি দেরি হলে মনে পড়ামাত্র খান, তারপর আগের মতো চালিয়ে যান এবং পরের ২ দিন কনডম ব্যবহার করুন। বাদ পড়ার আগের কয়েক দিনে সহবাস হয়ে থাকলে জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
মাসিক ও জরায়ুর সমস্যা: মাত্রা ও কত দিন খাবেন, তা শুধু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
বড়ি খাওয়ার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে বমি হলে বা তীব্র ডায়রিয়া হলে বড়ি কাজ নাও করতে পারে; তখন বড়ি বাদ পড়ার নিয়ম মেনে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিছু ঔষধ জন্মনিয়ন্ত্রণে লাইনেস্ট্রেনলের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, যেমন রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবারবিটাল, টপিরামেট, এইচআইভির কিছু ঔষধ এবং ভেষজ সেন্ট জন’স ওয়ার্ট। এগুলো খাওয়ার সময় ও বন্ধের পর ৪ সপ্তাহ বাড়তি সুরক্ষা বা অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করুন। লাইনেস্ট্রেনল সাইক্লোস্পোরিনের প্রভাব বদলাতে পারে। আপনার সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের সন্দেহ থাকলে
- কারণ জানা নেই এমন যোনিপথে রক্তপাত হলে
- বর্তমানে বা আগে স্তন ক্যান্সার, বা যৌন হরমোন-নির্ভর অন্য ক্যান্সার থাকলে
- গুরুতর লিভারের রোগ বা লিভারে টিউমার থাকলে
- বর্তমানে পায়ে বা ফুসফুসে রক্ত জমাট থাকলে
- লাইনেস্ট্রেনল বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাসিকের ধরন বদলে যাওয়া (ফোঁটা ফোঁটা রক্ত, অনিয়মিত, ঘন ঘন বা বন্ধ মাসিক), স্তনে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, মেজাজের পরিবর্তন, ব্রণ ও ওজনের পরিবর্তন। রক্তপাতের পরিবর্তন সাধারণত কয়েক মাসে ঠিক হয়ে যায়।
তলপেটে তীব্র ব্যথা (জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের লক্ষণ হতে পারে), এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, বুকে ব্যথা বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, বা গুরুতর এলার্জি হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করবেন না; গর্ভধারণের সন্দেহ হলে বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। কম মাত্রার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়া যায়, এতে দুধ কমে না। মাসিকের সমস্যার জন্য বেশি মাত্রা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া হয় না।
সতর্কতা
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মাইগ্রেন, আগে রক্ত জমাট বাঁধা, লিভারের সমস্যা বা বিষণ্ণতা থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- এই বড়ি যৌনবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় না।
- দীর্ঘদিন খেলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
- অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকার আগে ডাক্তারকে জানান যে আপনি লাইনেস্ট্রেনল খাচ্ছেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে সাধারণত গুরুতর ক্ষতি হয় না। বমি বমি ভাব, বমি বা যোনিপথে সামান্য রক্তপাত হতে পারে। শিশু ট্যাবলেট গিলে ফেললে বা অনেক বেশি খাওয়া হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোজেস্টোজেন (নারী যৌন হরমোন); শুধু-প্রোজেস্টোজেন মুখে খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।