ব্যবহার
লাইওফিলাইজড ব্যাকটেরিয়াল লাইসেট মুখে খাওয়ার রোগ প্রতিরোধ উদ্দীপক পণ্য, যা বারবার সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে ব্যবহৃত হয়। শ্বাসনালীর জন্য তৈরি পণ্য প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ব্রঙ্কাইটিস, সাইনাসাইটিস, টনসিলাইটিস ও কানের সংক্রমণের মতো বারবার শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের প্রকোপ কমাতে ব্যবহৃত হয়। মূত্রনালির জন্য তৈরি পণ্য বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। একা এটি তীব্র সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় না।
কীভাবে কাজ করে
এতে সংক্রমণ ঘটায় এমন সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার হিমশুষ্ক (লাইওফিলাইজড) নির্যাস থাকে, যা ভেঙে ফেলা হয় বলে রোগ ঘটাতে পারে না। মুখে বা জিভের নিচে নিলে এই অংশগুলো অন্ত্র ও মুখের আস্তরণের রোগ প্রতিরোধ কোষকে উদ্দীপিত করে। এতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত সাড়া দেয় ও বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা পরবর্তী সংক্রমণের সংখ্যা ও তীব্রতা কমাতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রেসক্রিপশন বা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী খান, কারণ পণ্যভেদে সময়সূচি আলাদা। সাধারণত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কয়েক দিন সকালে খালি পেটে একটি ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট খেতে হয় (যেমন শ্বাসনালীর পণ্যে ৩ মাস ধরে প্রতি মাসে ১০ দিন), অথবা মূত্রনালির পণ্যে প্রথমে দীর্ঘ সময় প্রতিদিন। শিশুদের জন্য আলাদা শক্তি পাওয়া যায়; ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ক্যাপসুল খুলে পানীয়ে মিশিয়ে দেওয়া যায়। জিভের নিচের ট্যাবলেট জিভের নিচে গলিয়ে খেতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে একসাথে খাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমনকারী ঔষধ এর প্রভাব কমাতে পারে। সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। অটোইমিউন রোগ বা গুরুতর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সমস্যায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এবং পণ্যে উল্লেখিত বয়সের চেয়ে ছোট শিশুদের সাধারণত দেওয়া হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা: পেটের গোলমাল, বমিভাব, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, কাশি এবং ত্বকে ফুসকুড়ি বা চুলকানি। কখনো কখনো জ্বর হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে ফুসকুড়ির মতো তীব্র অ্যালার্জি, অথবা দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ জ্বর বা ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়া হলে খাওয়া বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই। ডাক্তার পরামর্শ না দিলে এড়িয়ে চলাই ভালো।
সতর্কতা
এটি প্রতিরোধমূলক পণ্য, তীব্র সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোর্স চলাকালীন জ্বর বা সংক্রমণ হলে ডাক্তার দেখান। ত্বকের প্রতিক্রিয়া, দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যা বা শ্বাসকষ্ট হলে বন্ধ করে পরামর্শ নিন। ভালো ফলের জন্য পুরো মাসিক সময়সূচি মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
গুরুতর কোনো প্রভাব জানা নেই। বেশি খেলে পেটের গোলমাল হতে পারে। বিশেষ করে শিশু বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রোগ প্রতিরোধ উদ্দীপক (মুখে খাওয়ার ব্যাকটেরিয়াল লাইসেট)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।