ব্যবহার
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড পেস্ট ৩৪% হলো পানিতে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইডের ঘন পেস্ট, যাতে প্রায় ৩৪% সক্রিয় উপাদান থাকে এবং প্রস্তুতকারকরা এটি দিয়ে খাওয়ার ঔষধ তৈরি করেন। এটি মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া জাতীয় খাওয়ার সাসপেনশন ও ইমালশনের সক্রিয় উপাদান। ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড অল্প সময়ের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, এবং কম মাত্রায় অ্যান্টাসিড হিসেবে বদহজম, বুক জ্বালা ও অ্যাসিডিটি উপশমে ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যান্টাসিড হিসেবে এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে তা প্রশমিত করে, ফলে জ্বালাপোড়া কমে। জোলাপ হিসেবে অন্ত্রে থাকা ম্যাগনেসিয়াম অসমোসিসের মাধ্যমে অন্ত্রে পানি টেনে আনে, মল নরম করে এবং মলত্যাগ বাড়ায়। জোলাপের মাত্রা সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
তৈরি ঔষধের লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। প্রতি ৫ ml এ প্রায় ৪০০ mg ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইডযুক্ত সাধারণ সাসপেনশনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত:
- বদহজমে: দুই খাবারের মাঝে ও রাতে ঘুমানোর আগে ৫ থেকে ১০ ml, দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার।
- কোষ্ঠকাঠিন্যে: রাতে ঘুমানোর আগে ৩০ থেকে ৪৫ ml, এরপর এক গ্লাস পানি।
ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। শিশুদের মাত্রা বয়স অনুযায়ী: লেবেল বা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জোলাপ হিসেবে ১ সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড অনেক ঔষধের শোষণ কমাতে পারে, যেমন টেট্রাসাইক্লিন ও ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও লিভোফ্লক্সাসিন, আয়রন, লিভোথাইরক্সিন, অ্যালেন্ড্রোনেট, ডিগক্সিন, গ্যাবাপেনটিন ও কিছু এইচআইভির ঔষধ। অন্য ঔষধ এটি খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ ঘণ্টা পরে খান। একই সময়ে খেলে এন্টেরিক-কোটেড ট্যাবলেটের আবরণ নষ্ট হতে পারে।
কারা খাবেন না
- গুরুতর কিডনি রোগ (রক্তে ম্যাগনেসিয়াম জমে যেতে পারে)।
- অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা, অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা কারণ না জানা পেটব্যথা, বমিভাব বা বমি।
- তীব্র পানিশূন্যতা।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পাতলা পায়খানা ও পেটে মোচড়ানো ব্যথা সবচেয়ে সাধারণ, বিশেষ করে বেশি মাত্রায়। দীর্ঘদিন বা বেশি ব্যবহারে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, এবং কিডনির সমস্যা থাকলে রক্তে ম্যাগনেসিয়াম বেড়ে যেতে পারে।
তীব্র বা একটানা ডায়রিয়া, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, অথবা পেশি দুর্বলতা, তন্দ্রাভাব, বিভ্রান্তি, খুব কম রক্তচাপ বা ধীর হৃদস্পন্দনের মতো ম্যাগনেসিয়াম বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
শরীরে খুব কম শোষিত হওয়ায় গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ মাত্রায় মাঝেমধ্যে ব্যবহার গ্রহণযোগ্য ধরা হয়। নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- বদহজম ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে, বা গিলতে কষ্ট, ওজন কমা, বমি বা কালো মল হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
- কোষ্ঠকাঠিন্য ১ সপ্তাহের বেশি থাকলে বা হঠাৎ মলত্যাগের অভ্যাস বদলালে চিকিৎসকের কাছে যান।
- কিডনি রোগ থাকলে বা কম ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাদ্যাভ্যাসে থাকলে আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা হয়, এবং কদাচিৎ (বিশেষ করে কিডনি রোগে) রক্তে ম্যাগনেসিয়াম বেড়ে দুর্বলতা, তন্দ্রাভাব ও নিম্ন রক্তচাপ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টাসিড ও অসমোটিক জোলাপ (ম্যাগনেসিয়াম লবণ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে ভালোভাবে বন্ধ পাত্রে, আলো থেকে দূরে রাখুন। হিমায়িত করবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।