বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Magnesium Sulphate

  • 11 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 10 টি কোম্পানি

ব্যবহার

ম্যাগনেসিয়াম সালফেট একটি খনিজ লবণ। ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে এটি তীব্র প্রি-এক্লাম্পসিয়া ও এক্লাম্পসিয়ায় (গর্ভাবস্থার বিপজ্জনক উচ্চ রক্তচাপজনিত অবস্থা) খিঁচুনি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে এবং রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কমে গেলে তা পূরণে ব্যবহৃত হয়, যেমন শিরায় পুষ্টি পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে। হাসপাতালে কিছু হৃৎস্পন্দনের সমস্যা ও তীব্র হাঁপানির আক্রমণেও এটি ব্যবহার হয়। মুখে খাওয়ার এপসম লবণ হিসেবে এটি জোলাপের কাজ করে, এবং কিছু শিরায় দেওয়ার পুষ্টি দ্রবণেও এটি থাকে।

কীভাবে কাজ করে

ম্যাগনেসিয়াম অতিরিক্ত উত্তেজিত স্নায়ু ও পেশিকোষকে শান্ত করে এবং রক্তনালি ও শ্বাসনালি শিথিল করে। এতে এক্লাম্পসিয়ার খিঁচুনি থামে এবং কিছু অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন স্থির হয়। অন্ত্রে এটি পানি টেনে আনে, ফলে মল নরম হয় ও সহজে বের হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ইনজেকশন ও স্যালাইন হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স শিরা বা মাংসপেশিতে দেন, এবং শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁটুর রিফ্লেক্স, প্রস্রাবের পরিমাণ ও প্রয়োজনে রক্তে ম্যাগনেসিয়াম পরীক্ষা করেন। মাত্রা রোগ অনুযায়ী, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যে মুখে খাওয়ার এপসম লবণ শুধু লেবেলের নির্দেশমতো পানিতে গুলে খান, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কয়েক দিনের বেশি নয়।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

অজ্ঞানের সময় ব্যবহৃত পেশি শিথিলকারী ঔষধ এবং নিফেডিপিনসহ ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারের প্রভাব ম্যাগনেসিয়াম বাড়াতে পারে (নিম্ন রক্তচাপ ও পেশি দুর্বলতার ঝুঁকি)। ক্যালসিয়াম লবণ এর প্রভাব উল্টে দেয়। মুখে খেলে এটি টেট্রাসাইক্লিন, কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, আয়রন ও বিসফসফোনেটের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।

কারা খাবেন না

  • হার্ট ব্লক বা হৃৎপেশির গুরুতর ক্ষতি (ইনজেকশন)
  • মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস
  • গুরুতর কিডনি বিকল
  • মুখে জোলাপ হিসেবে: অন্ত্রে বাধা, কারণ অজানা তীব্র পেটব্যথা বা পানিশূন্যতা

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

স্যালাইন চলার সময় মুখ লাল হওয়া, গরম লাগা, ঘাম, বমি ভাব, মাথাব্যথা, ঝিমুনি ও রক্তচাপ কমে যাওয়া সাধারণ। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে। মুখে খেলে ডায়রিয়া ও পেট মোচড়ানো হতে পারে।

শ্বাস ধীর বা অগভীর হওয়া, অতিরিক্ত ঝিমুনি, পেশি দুর্বলতা বা রিফ্লেক্স হারানো, বুকে ব্যথা, খুব ধীর হৃৎস্পন্দন, বা প্রস্রাব খুব কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

প্রি-এক্লাম্পসিয়া ও এক্লাম্পসিয়ায় এটি প্রচলিত ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা, এবং ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে গর্ভাবস্থায় দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় (৫ থেকে ৭ দিনের বেশি) দিলে শিশুর হাড়ে প্রভাব পড়তে পারে, তাই তা এড়ানো হয়। জন্মের পর শিশুর দুর্বলতা পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়।

সতর্কতা

কিডনির সমস্যায় ম্যাগনেসিয়াম জমে যেতে পারে, তাই সাবধানে ব্যবহার করা হয়। স্যালাইন চলার সময় প্রতিষেধক হিসেবে ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ইনজেকশন হাতের কাছে রাখা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত বা শিশুদের জোলাপ হিসেবে দেবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়ামে রিফ্লেক্স হারানো, দুর্বলতা, নিম্ন রক্তচাপ, ধীর শ্বাস এবং খুব বেশি মাত্রায় হৃৎপিণ্ড থেমে যেতে পারে। স্যালাইন বন্ধ করে ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট দেওয়া হয়; শ্বাসের সহায়তা লাগতে পারে।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ইলেকট্রোলাইট পূরক; এক্লাম্পসিয়ায় খিঁচুনিরোধী; অসমোটিক জোলাপ

সংরক্ষণ

ইনজেকশন: প্যাকে লেখা নির্দেশমতো, ৩০°C এর নিচে রাখুন, ফ্রিজে জমাবেন না। মুখে খাওয়ার পাউডার: ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায় রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Magnesium Sulphate এর ব্র্যান্ড

9 টি ব্র্যান্ড

Magnesium Sulphate যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

2 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।