ব্যবহার
ম্যানিটল একটি সুগার অ্যালকোহল, যা হাসপাতালে শিরায় ইনফিউশন হিসেবে (সাধারণত ১০% বা ২০% দ্রবণ) দেওয়া হয়। মাথায় আঘাত, স্ট্রোক বা মস্তিষ্কের টিউমারের পর খুলির ভেতরের বাড়তি চাপ (মস্তিষ্কের ফোলা) কমাতে, চোখের ভেতরের উচ্চ চাপ কমাতে (যেমন তীব্র গ্লুকোমা বা চোখের অপারেশনের আগে), কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাব বাড়াতে এবং কিডনির মাধ্যমে কিছু বিষ বের করতে এটি ব্যবহৃত হয়। ফুসফুসের কিছু রোগে শ্বাসের মাধ্যমে নেওয়ার পাউডার রূপও আছে, তবে সেটি আলাদা পণ্য।
কীভাবে কাজ করে
ম্যানিটল রক্তপ্রবাহে থাকে, কোষে ঢোকে না। এতে রক্ত ঘন হয় এবং মস্তিষ্ক ও চোখের মতো ফোলা টিস্যু থেকে পানি রক্তে টেনে আনে। কিডনি ম্যানিটল ছাঁকে কিন্তু আবার শোষণ করতে পারে না, তাই এটি অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের সাথে বের করে দেয় (অসমোটিক ডায়ুরেসিস)।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু চিকিৎসক বা নার্স শিরায় ইনফিউশন হিসেবে, সাধারণত ফিল্টারের মাধ্যমে দেন। ওজন, রোগ, কিডনির কার্যক্ষমতা ও রক্ত পরীক্ষা অনুযায়ী মাত্রা ও গতি চিকিৎসক ঠিক করেন; ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দেওয়া হয়। ঠান্ডায় দ্রবণে ক্রিস্টাল তৈরি হলে ব্যবহারের আগে গরম করে পুরোপুরি গলিয়ে নিতে হবে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্য মূত্রবর্ধকের প্রভাব বাড়াতে এবং রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারে।
- অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড বা সাইক্লোস্পোরিনের মতো কিডনির ক্ষতিকর ঔষধের সাথে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- একই লাইনে রক্ত দেওয়া যাবে না।
কারা খাবেন না
- টেস্ট ডোজের পরও প্রস্রাব না হওয়া কিডনি বিকলতা
- তীব্র পানিশূন্যতা
- গুরুতর হার্ট ফেইলিউর বা ফুসফুসে পানি জমা
- অপারেশনের সময় ছাড়া খুলির ভেতরে চলমান রক্তক্ষরণ
- ম্যানিটলে অ্যালার্জি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- তরল ও লবণের ভারসাম্যহীনতা: সোডিয়াম বা পটাশিয়াম বেশি বা কম
- পানিশূন্যতা, তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- মাথাব্যথা, বমিভাব, বমি, মাথা ঘোরা
- হৃদরোগীদের তরলের আধিক্য ও শ্বাসকষ্ট
- ড্রিপ শিরার বাইরে চলে গেলে ব্যথা বা টিস্যুর ক্ষতি
- কদাচিৎ কিডনির ক্ষতি বা অ্যালার্জি
শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, তীব্র তৃষ্ণা, র্যাশ বা মুখ ফোলা, অথবা ড্রিপের জায়গায় ব্যথা ও ফোলা হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক যখন মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ম্যানিটল দেওয়া হয়।
সতর্কতা
- কিডনির কার্যক্ষমতা, প্রস্রাবের পরিমাণ, রক্তের লবণ ও তরলের ভারসাম্য ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলে আগে একটি ছোট টেস্ট ডোজ দেওয়া হতে পারে।
- হৃদরোগ ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা।
- শুধু ক্রিস্টালমুক্ত স্বচ্ছ দ্রবণ ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ম্যানিটল দিলে তীব্র তরল ও লবণের ভারসাম্যহীনতা, পানিশূন্যতা, তরলের আধিক্য, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা কিডনির ক্ষতি হতে পারে। ইনফিউশন বন্ধ করে চিকিৎসা দল তরল ও লবণ ঠিক করেন; প্রয়োজনে ডায়ালাইসিস করা হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অসমোটিক মূত্রবর্ধক
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ২০°C থেকে ৩০°C এর মধ্যে। ফ্রিজে বা জমিয়ে রাখবেন না, কারণ ক্রিস্টাল তৈরি হতে পারে। স্বচ্ছ ও পাত্র অক্ষত থাকলেই ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।