ব্যবহার
মারহাম নিম হলো নিম (আজাদিরাক্টা ইন্ডিকা) ভিত্তিক একটি ইউনানি মলম (মারহাম অর্থ মলম), যাতে সাধারণত অন্যান্য প্রচলিত ভেষজ উপাদানও থাকে। প্রথাগতভাবে এটি ত্বকের ছোটখাটো সমস্যায় লাগানো হয়, যেমন চুলকানি, ছোট ফোঁড়া, ব্রণ, হালকা কাটা ও ছড়ে যাওয়া, ছত্রাকজনিত চুলকানির দাগ এবং শুষ্ক ও জ্বালাপোড়া ত্বক। এসব ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, এবং গুরুতর বা ছড়িয়ে পড়া ত্বকের সংক্রমণে এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
নিমের পাতা, ছাল ও বীজের তেলে নিম্বিন, নিম্বিডিন ও অ্যাজাডিরাক্টিনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যেগুলো গবেষণাগারে জীবাণুরোধী, ছত্রাকরোধী ও প্রদাহরোধী গুণ দেখিয়েছে। মলম হিসেবে লাগালে এটি ছোট ক্ষত পরিষ্কার রাখতে, চুলকানি কমাতে ও লালভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। মলমের ভিত্তি ত্বককে নরম ও সুরক্ষিত রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। আক্রান্ত জায়গা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিয়ে দিনে দুই বা তিনবার পাতলা করে লাগান, অথবা লেবেলের নির্দেশ বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। হাতে চিকিৎসা না হলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের বড় অংশের ক্ষতে লাগাবেন না এবং চোখ, মুখ ও নাকের ভেতর থেকে দূরে রাখুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বকে লাগালে খাওয়ার ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একসাথে অন্য ক্রিম বা মলম লাগাবেন না।
কারা খাবেন না
- নিম বা মলমের অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- গভীর ক্ষত, পোড়া, অথবা খুব বেশি সংক্রমিত, রস ঝরা বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ত্বকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ মানুষের এটি ভালোভাবে সহ্য হয়। কারো কারো লাগানোর জায়গায় জ্বালা, লালভাব, চুলকানি বা অ্যালার্জিজনিত ফুসকুড়ি হতে পারে। জ্বালা হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, সারা গায়ে ফুসকুড়ি উঠলে, অথবা ত্বকের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ালে, খুব ব্যথা হলে বা জ্বর এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বকে অল্প পরিমাণে লাগালে ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে নিরাপত্তার তথ্য খুব কম। গর্ভাবস্থায় নিম কখনো মুখে খাবেন না। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং দুধ খাওয়ানোর আগে স্তন বা বোঁটায় লাগাবেন না।
সতর্কতা
গিলবেন না। নিমের তেল মুখে গেলে মারাত্মক বিষক্রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও ছোট বাচ্চাদের, তাই টিউব বা কৌটা তাদের নাগালের বাইরে রাখুন। এক সপ্তাহের মধ্যে ত্বকের সমস্যা না কমলে, বারবার ফিরে এলে, অথবা ডায়াবেটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে সাধারণত ক্ষতি হয় না, তবে জ্বালা বাড়তে পারে। কেউ গিলে ফেললে, বিশেষ করে শিশু, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন এবং প্যাকেট সঙ্গে নিয়ে যান, কারণ নিম বমি, ঝিমুনি ও খিঁচুনি ঘটাতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউনানি ভেষজ বাহ্যিক প্রস্তুতি
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।