ব্যবহার
ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) এর লক্ষণ, যেমন পেট মোচড়ানো ও ব্যথা, পেট ফাঁপা ও অন্ত্রের খিঁচুনি, এবং অন্ত্রের অন্যান্য খিঁচুনি কমাতে মেবেভেরিন ব্যবহার হয়। কিছু পণ্যে এর সাথে ইসপগুলের ভুসি থাকে, যা আঁশ জাতীয় উপাদান এবং পায়খানা নিয়মিত করতে সাহায্য করে।
কীভাবে কাজ করে
মেবেভেরিন একটি খিঁচুনিরোধী (অ্যান্টিস্পাজমোডিক) ঔষধ। এটি সরাসরি অন্ত্রের দেয়ালের মসৃণ পেশিতে কাজ করে, পেশি শিথিল করে ব্যথাদায়ক খিঁচুনি কমায়, কিন্তু অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বন্ধ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ট্যাবলেট, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ১৩৫ mg দিনে ৩ বার, খাবারের প্রায় ২০ মিনিট আগে।
- দীর্ঘক্ষণ কাজ করা (SR) ক্যাপসুল, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ২০০ mg দিনে ২ বার, সকালে ও সন্ধ্যায়। পানি দিয়ে পুরোটা গিলে খান; চিবাবেন না।
- ইসপগুলসহ স্যাশে: প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খান।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
প্রায় ২ সপ্তাহে উপসর্গ না কমলে ডাক্তার দেখান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। যেসব ঔষধ খাচ্ছেন সবগুলোর কথা ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান। পণ্যে ইসপগুল থাকলে অন্য ঔষধ এর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা পরে খান।
কারা খাবেন না
- মেবেভেরিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- অন্ত্রের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে (প্যারালাইটিক ইলিয়াস)।
- ইসপগুলযুক্ত পণ্য: অন্ত্রে বাধা বা গিলতে কষ্ট হলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। র্যাশ, চুলকানি, চাকা চাকা ফোলা, বদহজম ও মাথা ঘোরা হতে পারে।
এসব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে যাওয়া, বা শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট।
- গুরুতর র্যাশ।
- তীব্র বা বাড়তে থাকা পেটব্যথা, কালো পায়খানা বা মলে রক্ত।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই ডাক্তার না বললে এড়িয়ে চলুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি খাওয়া উচিত নয়।
সতর্কতা
নিজে নিজে আইবিএসের চিকিৎসা শুরুর আগে ডাক্তার দেখান, যদি বয়স ৪০ এর বেশি হয় ও উপসর্গ নতুন হয়, অথবা মলে রক্ত, কারণ ছাড়া ওজন কমা, জ্বর, রক্তস্বল্পতা, বমি, প্রস্রাবে ব্যথা বা উপসর্গের কারণে রাতে ঘুম ভেঙে যায়। এগুলো অন্য রোগের লক্ষণ হতে পারে যা পরীক্ষা করা দরকার। পোরফাইরিয়া থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হতে পারে। চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধী (অন্ত্রের মসৃণ পেশি শিথিলকারক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।