ব্যবহার
ট্যাবলেট:
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে জরায়ু থেকে অস্বাভাবিক রক্তপাত;
- কয়েক মাস ধরে মাসিক বন্ধ থাকা (সেকেন্ডারি অ্যামেনোরিয়া), গর্ভধারণ ও অন্য কারণ বাদ দেওয়ার পর;
- এন্ডোমেট্রিওসিস (জরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বাড়া);
- হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিতে ইস্ট্রোজেনের সাথে, জরায়ুর আস্তরণ রক্ষা করতে।
ইনজেকশন: দীর্ঘমেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণ, প্রতি ৩ মাসে একটি ইনজেকশন। কিছু ক্যান্সারে (যেমন জরায়ুর আস্তরণ বা কিডনির ক্যান্সার) বিশেষজ্ঞরা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বেশি মাত্রায় ব্যবহার করেন।
কীভাবে কাজ করে
মেড্রক্সিপ্রোজেস্টেরন অ্যাসিটেট একটি কৃত্রিম প্রোজেস্টোজেন, যা শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন প্রোজেস্টেরনের মতো কাজ করে। এটি জরায়ুর আস্তরণের বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া নিয়ন্ত্রণ করে। জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন হিসেবে এটি ডিম্বাশয় থেকে ডিম বের হওয়া বন্ধ রাখে এবং জরায়ুমুখের শ্লেষ্মা ঘন করে, ফলে শুক্রাণু ভেতরে যেতে পারে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা মাসিক বন্ধ থাকলে: সাধারণত প্রতি চক্রে ৫ থেকে ১০ দিন, দিনে ২.৫ mg থেকে ১০ mg, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। এন্ডোমেট্রিওসিস ও হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিতে: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন: প্রতি ১২ থেকে ১৩ সপ্তাহে ১৫০ mg গভীর পেশিতে, ডাক্তার বা নার্স দেন। প্রথম ইনজেকশন সাধারণত মাসিক শুরুর প্রথম ৫ দিনের মধ্যে দেওয়া হয়।
ক্যান্সারের চিকিৎসায়: শুধু বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
ট্যাবলেটের কোনো ডোজ বাদ পড়লে মনে পড়ামাত্র খান, যদি পরের ডোজের সময় কাছাকাছি না হয়। ইনজেকশন ১ সপ্তাহের বেশি দেরি হলে কনডম ব্যবহার করুন ও ডাক্তারের পরামর্শ নিন; গর্ভধারণ পরীক্ষা লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েনের মতো যেসব ঔষধ লিভারের এনজাইম বাড়ায়, সেগুলো ট্যাবলেটের কাজ কমাতে পারে।
- রক্ত পাতলা করার ঔষধ ও ডায়াবেটিসের ঔষধে বাড়তি পর্যবেক্ষণ লাগতে পারে।
আপনি যে সব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য খান, তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থা বা গর্ভধারণের সন্দেহ থাকলে
- কারণ জানা নেই এমন যোনিপথে রক্তপাত
- স্তন ক্যান্সার বা হরমোন-সংবেদনশীল অন্য ক্যান্সার (ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার ছাড়া)
- গুরুতর লিভারের রোগ বা লিভারে টিউমার
- বর্তমানে বা আগে রক্ত জমাট বাঁধা, স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক (বিশেষ করে ট্যাবলেট ও বেশি মাত্রার ক্ষেত্রে)
- মেড্রক্সিপ্রোজেস্টেরন অ্যাসিটেটে এলার্জি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: অনিয়মিত রক্তপাত বা ফোঁটা ফোঁটা রক্ত, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া (ইনজেকশনে বেশি হয়), ওজন বাড়া, স্তনে ব্যথা, মাথাব্যথা, মেজাজের পরিবর্তন, পেট ফাঁপা, ব্রণ ও বমি বমি ভাব।
দীর্ঘদিন ইনজেকশন নিলে হাড় পাতলা হতে পারে; বন্ধ করার পর এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঠিক হয়ে যায়। শেষ ইনজেকশনের পর গর্ভধারণের ক্ষমতা ফিরতে এক বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে।
এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, বুকে ব্যথা বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা বা দেখা ও কথা বলায় সমস্যা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, খুব বেশি রক্তপাত, তীব্র মন খারাপ, অথবা মুখ ফুলে শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা যাবে না। গর্ভধারণের সন্দেহ হলে বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন নেওয়া যায়, সাধারণত প্রসবের ৬ সপ্তাহ পর থেকে; দুধে খুব অল্প পরিমাণ যায়। ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- হাড় পাতলা হওয়ার ঝুঁকির কারণে ২ বছর ইনজেকশন নেওয়ার পর সাধারণত ডাক্তার আবার মূল্যায়ন করেন। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও ব্যায়াম হাড়ের জন্য ভালো।
- বিষণ্ণতা, ডায়াবেটিস, মাইগ্রেন, মৃগীরোগ, হাঁপানি, বা হৃদরোগ অথবা কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- এটি যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
গুরুতর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি খেলে বমি বমি ভাব বা যোনিপথে রক্তপাত হতে পারে। পরামর্শের জন্য ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোজেস্টোজেন (নারী যৌন হরমোন) ও হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।