ব্যবহার
মেফেনামিক এসিড হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা কমাতে ব্যবহার হয়, বিশেষ করে মাসিকের ব্যথায় (ডিসমেনোরিয়া)। মাসিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (মেনোরেজিয়া) কমাতে এবং অল্প সময়ের জন্য মাথাব্যথা, দাঁতব্যথা ও ছোটখাটো চিকিৎসার পরের ব্যথায়ও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID) গ্রুপের ঔষধ। শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের রাসায়নিক তৈরি কমিয়ে দেয়, যা ব্যথা, ফোলা ও জরায়ুর জোরালো সংকোচনের জন্য দায়ী। ফলে ব্যথা কমে এবং মাসিকের রক্তক্ষরণও কমতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী: সাধারণত ৫০০ mg দিনে ৩ বার, খাবারের সাথে বা খাওয়ার পরপরই।
- মাসিকের ব্যথা বা বেশি রক্তক্ষরণে: ব্যথা বা রক্তপাত শুরু হলে খাওয়া শুরু করুন এবং শুধু কষ্টের দিনগুলোতে খান, সাধারণত একবারে ৭ দিনের বেশি নয়।
- যত কম মাত্রায় ও যত কম দিন খেলে কাজ হয়, ততটুকুই খান। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ৭ দিনের বেশি খাবেন না।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ, অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID (যেমন আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক), স্টেরয়েড ট্যাবলেট, ফ্লুওক্সেটিন বা সারট্রালিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধ, লিথিয়াম, মিথোট্রেক্সেট, প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ (ডাইইউরেটিক) বা লোসারটান, এনালাপ্রিলের মতো প্রেশারের ঔষধ খেলে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান। একসাথে খেলে পেটে রক্তক্ষরণ বা কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- মেফেনামিক এসিডে এলার্জি থাকলে, অথবা অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID খেলে হাঁপানি, চুলকানি-চাকা বা নাক দিয়ে পানি পড়ার ইতিহাস থাকলে।
- বর্তমানে বা আগে পাকস্থলীর আলসার বা পেট থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকলে।
- অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ (আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রোনস ডিজিজ) থাকলে।
- কিডনি, লিভার বা হার্টের গুরুতর অকার্যকারিতা থাকলে।
- গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা, মাথা ঘোরা ও ঘুম ঘুম ভাব। পাতলা পায়খানা বা চামড়ায় র্যাশ হলে ঔষধ বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির দানার মতো বমি, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ, চোখ বা চামড়া হলুদ হওয়া, অথবা প্রস্রাব অনেক কমে গেলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় খাবেন না, আর শেষ তিন মাসে একেবারেই নয়, কারণ এতে শিশুর হার্ট ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে এবং প্রসব দেরি হতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
পাকস্থলী রক্ষায় খাবারের সাথে খান। বয়স্ক হলে, অথবা হাঁপানি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা বা আলসারের ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। অন্যান্য NSAID এর মতো দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খেলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। ঘুম ঘুম ভাব বা মাথা ঘোরা হলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটব্যথা, বমি, ঝিমুনি এবং বিশেষ করে এই ঔষধে খিঁচুনি হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID), ফেনামেট গ্রুপ।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।