ব্যবহার
- অগ্রসর ক্যান্সার বা এইডসে আক্রান্ত মানুষের রুচি কমে যাওয়া ও উল্লেখযোগ্য ওজন কমে যাওয়ায় (প্রধানত ওরাল সাসপেনশন)।
- ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তে অগ্রসর স্তন ক্যান্সার বা জরায়ুর ভেতরের আবরণের ক্যান্সারে (এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার) সহায়ক (প্যালিয়েটিভ) চিকিৎসায় (প্রধানত ট্যাবলেট)।
কীভাবে কাজ করে
মেজেস্ট্রল অ্যাসিটেট প্রোজেস্টেরন হরমোনের কৃত্রিম রূপ (প্রোজেস্টোজেন)। এটি রুচি বাড়ায় ও ওজন বাড়াতে সাহায্য করে, যদিও ঠিক কীভাবে তা পুরোপুরি জানা নেই। কিছু স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সারে যে হরমোন ক্যান্সার বাড়ায়, এটি তার বিরুদ্ধে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। রোগ অনুযায়ী ডাক্তার মাত্রা ও সময়কাল ঠিক করেন। রুচির চিকিৎসায় সাধারণত দিনে একবার কয়েক সপ্তাহ খেতে হয়, তারপর ডাক্তার পর্যালোচনা করেন। ক্যান্সারের চিকিৎসায় ফল বোঝার জন্য সাধারণত অন্তত ২ মাস প্রতিদিন খেতে হয়।
সাসপেনশন ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন এবং সাথে দেওয়া কাপ বা সিরিঞ্জ দিয়ে মেপে খান। দীর্ঘদিন খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; কীভাবে বন্ধ করতে হবে ডাক্তার বলে দেবেন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মেজেস্ট্রল অ্যাসিটেট রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, তাই ডায়াবেটিসের ঔষধের মাত্রা বদলাতে হতে পারে। এটি ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে। হৃৎস্পন্দনের ছন্দের ঔষধ ডোফেটিলাইডের মাত্রা বাড়াতে পারে, এবং ইন্ডিনাভিরের মতো কিছু এইচআইভি ঔষধের মাত্রা কমাতে পারে। আপনি যে সব ঔষধ, ভিটামিন ও ভেষজ পণ্য খান, তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায়
- মেজেস্ট্রল অ্যাসিটেট বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
- ডোফেটিলাইডের সাথে একসাথে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ওজন বাড়া, রুচি বাড়া, শরীরে পানি জমে ফুলে যাওয়া, রক্তে শর্করা বাড়া, বমি বমি ভাব, ঘুমের সমস্যা, র্যাশ, হঠাৎ গরম লাগা, অনিয়মিত যোনিপথে রক্তপাত এবং পুরুষদের যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া।
কম ক্ষেত্রে: উচ্চ রক্তচাপ, মেজাজের পরিবর্তন ও শ্বাসকষ্ট।
এক পায়ে ব্যথা, ফোলা বা গরম ভাব; বুকে ব্যথা বা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট; অথবা বিশেষ করে অসুখের সময় বা ঔষধ বন্ধের পর তীব্র দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি বা অজ্ঞান হওয়া (অ্যাড্রিনাল হরমোন কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে) হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
মেজেস্ট্রল অ্যাসিটেট গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে হরমোনবিহীন নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- ডায়াবেটিস, আগে রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস, হার্ট ফেইলিউর, অথবা লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা দরকার হতে পারে।
- দীর্ঘদিন খেলে শরীরের নিজস্ব অ্যাড্রিনাল হরমোন কমে যেতে পারে; বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের আগে বা গুরুতর অসুখের সময় চিকিৎসককে জানান যে আপনি এই ঔষধ খান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি খেলে গুরুতর সমস্যা সাধারণত হয় না, তবু বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোজেস্টোজেন (হরমোনজনিত ক্যান্সারবিরোধী ও রুচিবর্ধক ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাসপেনশন ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।