ব্যবহার
আলঝেইমার রোগজনিত মাঝারি থেকে গুরুতর ডিমেনশিয়ার (স্মৃতিভ্রংশ) লক্ষণ কমাতে মেমান্টিন ব্যবহার হয়। এটি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতায় সাহায্য করতে পারে। এটি রোগ সারায় না বা রোগের অগ্রগতি থামায় না। এটি একা বা ডোনেপেজিলের সাথে দেওয়া হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
আলঝেইমার রোগে মস্তিষ্কে গ্লুটামেট নামের রাসায়নিক বেশি হলে NMDA রিসেপ্টর অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে স্নায়ুকোষের ক্ষতি করতে পারে। মেমান্টিন এই রিসেপ্টর আংশিকভাবে আটকে দিয়ে অতিরিক্ত গ্লুটামেটের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়, কিন্তু শেখা ও মনে রাখার স্বাভাবিক সংকেত চলতে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। প্রচলিত পরিকল্পনা হলো প্রথম সপ্তাহে দিনে ১ বার ৫ mg, দ্বিতীয় সপ্তাহে দিনে ১০ mg, তৃতীয় সপ্তাহে দিনে ১৫ mg, এবং চতুর্থ সপ্তাহ থেকে দিনে ১ বার ২০ mg। কিডনির গুরুতর রোগে সাধারণত সর্বোচ্চ দিনে ১০ mg। প্রতিদিন একই সময়ে খাবারের আগে বা পরে খান। কিছু ঔষধ দিনে ২ বার খেতে হয়; ডাক্তারের নির্দেশ মেনে চলুন। ডাক্তারের সাথে কথা না বলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যামান্টাডিন, কিটামিন বা ডেক্সট্রোমেথরফ্যানের সাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন; এগুলো একইভাবে কাজ করে এবং বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন ঘটাতে পারে। যেসব ঔষধ বা খাদ্যাভ্যাস প্রস্রাবের অম্লতা কমায় (যেমন অ্যাসিটাজোলামাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, বা হঠাৎ প্রধানত নিরামিষ খাবারে চলে যাওয়া) সেগুলো মেমান্টিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। সিমেটিডিন, র্যানিটিডিন, কুইনিন, হাইড্রোক্লোরোথিয়াজাইড ও নিকোটিন মাত্রা বদলাতে পারে। এটি লেভোডোপা ও অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে, এবং ওয়ারফারিন খেলে INR পরীক্ষা করানো উচিত।
কারা খাবেন না
মেমান্টিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও ভারসাম্যের সমস্যা। কম দেখা যায়: বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, ক্লান্তি, বমি, অস্বাভাবিক হাঁটা, ছত্রাক সংক্রমণ ও রক্ত জমাট বাঁধা। খিঁচুনি বিরল।
খিঁচুনি, হঠাৎ তীব্র বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য কম; একান্ত প্রয়োজন হলে এবং ডাক্তার পরামর্শ দিলেই ব্যবহার করা উচিত। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানো পরামর্শযোগ্য নয়।
সতর্কতা
মৃগীরোগ বা আগে খিঁচুনি, সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা বা সম্প্রতি খাদ্যাভ্যাস বদলালে ডাক্তারকে জানান। মাথা ঘোরা ও ঘুম ঘুম ভাব গাড়ি চালানো ও যন্ত্র চালানোয় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিচর্যাকারীরা আচরণের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখবেন এবং রোগী যত ঔষধ খান তার তালিকা রাখবেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে অস্থিরতা, ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, বমি, ধীর নড়াচড়া, দুর্বলতা বা খিঁচুনি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
NMDA রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট; ডিমেনশিয়ার ঔষধ।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।