ব্যবহার
মারক্যাপটোপিউরিন প্রধানত অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া (ALL) নামের রক্তের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে চিকিৎসার দীর্ঘ রক্ষণাবেক্ষণ পর্যায়ে। অন্য চিকিৎসায় যথেষ্ট কাজ না হলে বিশেষজ্ঞরা অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ (ক্রোনস ডিজিজ ও আলসারেটিভ কোলাইটিস) নিয়ন্ত্রণেও এটি ব্যবহার করেন।
কীভাবে কাজ করে
মারক্যাপটোপিউরিন একটি পিউরিন অ্যান্টিমেটাবোলাইট। এটি দেখতে ডিএনএ এর একটি গঠন উপাদানের মতো, তাই দ্রুত বিভাজিত কোষ ভুল করে এটি গ্রহণ করে। এতে কোষগুলো ঠিকমতো ডিএনএ তৈরি করতে পারে না, ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমে এবং অতিসক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শান্ত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞ যেভাবে লিখে দেন ঠিক সেভাবে সেবন করুন। মাত্রা নির্ভর করে শরীরের আকার, রক্তের কোষের সংখ্যা, জেনেটিক পরীক্ষা (TPMT বা NUDT15) ও রোগের উপর, এবং প্রায়ই সমন্বয় করা হয়। প্রতিদিন একই সময়ে, সাধারণত সন্ধ্যায় খান; সবসময় খাবারের সাথে অথবা সবসময় খালি পেটে, একভাবে খান। দুধের সাথে খাবেন না। ট্যাবলেট আস্ত গিলে ফেলুন এবং ধরার পর হাত ধুয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালোপিউরিনল ও ফেবুক্সোস্ট্যাট মারক্যাপটোপিউরিনের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়; মাত্রা অনেক কমাতে হয় বা একসাথে ব্যবহার এড়াতে হয়।
- মেথোট্রেক্সেট, অন্যান্য ক্যান্সারের ঔষধ ও কো-ট্রাইমক্সাজল রক্তকণিকা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- এটি ওয়ারফারিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলতে হবে।
কারা খাবেন না
- মারক্যাপটোপিউরিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- চিকিৎসার সময় ইয়েলো ফিভারের মতো জীবন্ত টিকা নেওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: শ্বেতকণিকা, লোহিতকণিকা ও প্লাটিলেট কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, মুখে ঘা ও লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া। গুরুতর: মারাত্মক সংক্রমণ, লিভারের ক্ষতি, প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং দীর্ঘ ব্যবহারে বিরল কিছু ক্যান্সার। রোদে সংবেদনশীলতা বেড়ে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
জ্বর, কাঁপুনি বা গলাব্যথা, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তক্ষরণ, চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব বা তীব্র পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
মারক্যাপটোপিউরিন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসার সময় নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন এবং সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করুন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বিশেষজ্ঞ অনুমতি না দিলে সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তকণিকা ও লিভার পরীক্ষা প্রয়োজন।
- জলবসন্ত বা হারপিস জোস্টার আক্রান্ত মানুষ থেকে দূরে থাকুন এবং যেকোনো সংক্রমণ দ্রুত জানান।
- সানস্ক্রিন ও ঢাকা পোশাক ব্যবহার করুন।
- নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ বা মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনে বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া এবং বিপজ্জনকভাবে রক্তকণিকা কমে যেতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে সাথে সাথে হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সার প্রতিরোধী অ্যান্টিমেটাবোলাইট (পিউরিন অ্যানালগ); ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।