ব্যবহার
মেরোপেনেম একটি শক্তিশালী, বিস্তৃত কার্যক্ষমতার অ্যান্টিবায়োটিক, যা হাসপাতালে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। এটি গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন:
- গুরুতর নিউমোনিয়া, হাসপাতালে হওয়া নিউমোনিয়াসহ।
- পেটের ভেতরের ও মূত্রনালির জটিল সংক্রমণ।
- ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের আবরণের সংক্রমণ)।
- ত্বক ও নরম টিস্যুর জটিল সংক্রমণ।
- রক্তের সংক্রমণ (সেপসিস) এবং শ্বেত রক্তকণিকা খুব কম থাকা রোগীর জ্বর।
সাধারণত গুরুতর বা অন্য ঔষধে কাজ না করা সংক্রমণের জন্য এটি রাখা হয়।
কীভাবে কাজ করে
মেরোপেনেম কার্বাপেনেম দলের অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়াকে কোষপ্রাচীর তৈরি করতে দেয় না, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়। অন্য অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিরোধী কিছু ব্যাকটেরিয়াসহ অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে এটি কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ডাক্তার বা নার্স শিরায় দেন, কয়েক মিনিট ধরে ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে।
- মাত্রা ও কতক্ষণ পরপর দেওয়া হবে (সাধারণত ৮ ঘণ্টা পরপর) তা সংক্রমণ, ওজন ও কিডনির অবস্থা দেখে ডাক্তার ঠিক করেন।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
রোগী ভালো বোধ করলেও পুরো কোর্স শেষ করা উচিত।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ভ্যালপ্রোইক অ্যাসিড (সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েট): মেরোপেনেম এর রক্তের মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়, ফলে খিঁচুনি হতে পারে। সাধারণত দুটি একসাথে দেওয়া হয় না।
- প্রোবেনেসিড মেরোপেনেমের মাত্রা বাড়ায়।
- ওয়ারফারিন: এর কার্যকারিতা বদলাতে পারে; রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
কারা খাবেন না
- মেরোপেনেম বা অন্য কার্বাপেনেমে অ্যালার্জি থাকলে।
- আগে পেনিসিলিন, সেফালোস্পোরিন বা অন্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে গুরুতর অ্যালার্জি (যেমন অ্যানাফাইল্যাক্সিস) হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি, মাথাব্যথা, র্যাশ, চুলকানি, এবং ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা। রক্ত পরীক্ষায় লিভারের পরীক্ষা বা রক্তকণিকায় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে পড়া), ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো তীব্র ত্বকের প্রতিক্রিয়া, খিঁচুনি, অথবা তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হয়, যা চিকিৎসার সময় বা কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে। এগুলোর যেকোনোটি হলে সাথে সাথে নার্স বা ডাক্তারকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় দেওয়া হয়। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কিডনি রোগে মাত্রা কমানো হয়।
- মৃগী বা মস্তিষ্কের অন্য রোগ থাকলে সাবধানে দিতে হয়, কারণ খিঁচুনি হতে পারে।
- দীর্ঘ কোর্সে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাকের (থ্রাশ) সংক্রমণ হতে পারে।
- অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ কমাতে শুধু প্রয়োজন হলেই এটি ব্যবহার করা উচিত।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে বেশি হলে খিঁচুনির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে কিডনি রোগে। হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়, এবং ডায়ালাইসিস করে এটি শরীর থেকে বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কার্বাপেনেম অ্যান্টিবায়োটিক (বিটা-ল্যাকটাম)।
সংরক্ষণ
পাউডার ভায়াল ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। মেশানোর পর হাসপাতালের ফার্মেসির নির্দেশমতো দ্রুত ব্যবহার করা হয়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।