ব্যবহার
মেসালামিন (মেসালাজিন বা ৫-অ্যামিনোস্যালিসাইলিক অ্যাসিড নামেও পরিচিত) হালকা থেকে মাঝারি আলসারেটিভ কোলাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি বৃহদন্ত্র ও মলদ্বারের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ, যাতে রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো ও বারবার টয়লেটে যাওয়ার তাগিদ হয়। রোগের আকস্মিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ শান্ত রাখা, দুই কাজেই এটি ব্যবহার করা হয়। কখনো কখনো কোলনকে আক্রান্ত করা ক্রোনস রোগেও দেওয়া হয়। প্রদাহ মলদ্বার বা নিচের কোলনে হলে সাপোজিটরি ও এনিমা ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
মেসালামিন সরাসরি অন্ত্রের আস্তরণে কাজ করে। এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ও লিউকোট্রিয়িনের মতো প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থ কমায় এবং অন্ত্রের দেয়ালে রোগপ্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া শান্ত করে, ফলে আস্তরণ সেরে উঠতে পারে। ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল বিশেষ আবরণযুক্ত, যাতে ঔষধ ঠিক দরকারি জায়গায়, অর্থাৎ নিচের অন্ত্রে গিয়ে বের হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা পণ্যের ধরন (ডিলেড-রিলিজ ট্যাবলেট, প্রলংগড-রিলিজ গ্র্যানিউল বা ক্যাপসুল, সাপোজিটরি বা এনিমা) এবং আকস্মিক বৃদ্ধির চিকিৎসা নাকি প্রতিরোধ তার উপর নির্ভর করে, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ব্যবহার করুন। ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান; গুঁড়ো করবেন বা চিবাবেন না। সাপোজিটরি সাধারণত রাতে মলত্যাগের পর দেওয়া হয়। প্রচুর পানি পান করুন। ভালো থাকলেও ঔষধ চালিয়ে যান, কারণ বন্ধ করলে রোগ আবার ফিরে আসতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যাজাথায়োপ্রিন ও মারক্যাপ্টোপিউরিন: রক্তকণিকা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ওয়ারফারিন: এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
- NSAID (যেমন আইবুপ্রোফেন) ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ: কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
- ল্যাকটুলোজ বা মল অম্লীয় করে এমন ঔষধ: কিছু ডিলেড-রিলিজ পণ্যের ঔষধ বের হওয়া কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
মেসালামিন, স্যালিসিলেট (যেমন অ্যাসপিরিন) বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা গুরুতর কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- মাথাব্যথা।
- পেটে ব্যথা, বমিভাব, পেটে গ্যাস, ডায়রিয়া।
- ফুসকুড়ি বা চুলকানি।
- কদাচিৎ: কিডনির প্রদাহ, লিভারের সমস্যা, অগ্ন্যাশয়, হৃৎপেশি বা হৃৎপিণ্ডের আবরণের প্রদাহ, ফুসফুসের প্রদাহ বা রক্তকণিকা কমে যাওয়া।
- শুরুর অল্প পরেই কোলাইটিস বেড়ে যাওয়ার মতো প্রতিক্রিয়া (পেট কামড়ানো, রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, জ্বর)।
বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট, পিঠ পর্যন্ত ছড়ানো তীব্র পেটে ব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অকারণে কালশিটে দাগ, রক্তপাত, গলা ব্যথা বা জ্বর, ফোসকা বা চামড়া ওঠা তীব্র ফুসকুড়ি, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব, অথবা ঔষধ শুরুর পর জ্বরসহ হঠাৎ ডায়রিয়া বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় মেসালামিন সাধারণত উপযুক্ত মনে করা হয়, কারণ মা ও শিশুর জন্য কোলাইটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি; শুধু ডাক্তারের পরামর্শমতো ব্যবহার করুন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানোর সাথে মানানসই মনে করা হয়, তবে শিশুর ডায়রিয়া হলে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
ঔষধ শুরুর আগে ও চিকিৎসার সময় নিয়মিত ডাক্তার কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন, এবং রক্তকণিকা ও লিভার পরীক্ষা করতে পারেন। কিডনি বা লিভারের সমস্যা, হাঁপানি, হৃদরোগ বা সালফাসালাজিনে অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান। কিডনিতে পাথরের কথা জানা গেছে, তাই যথেষ্ট পানি পান করুন। কিছু পণ্যে প্রস্রাব কমলা বা লালচে হতে পারে, অথবা মলে ট্যাবলেটের খোসা দেখা যেতে পারে, যা ক্ষতিকর নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে স্যালিসিলেট বিষক্রিয়ার মতো লক্ষণ হতে পারে, যেমন কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, বমিভাব, বমি, দ্রুত শ্বাস ও বিভ্রান্তি। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যামিনোস্যালিসিলেট (অন্ত্রের প্রদাহরোধী ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সাপোজিটরি: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫°C এর নিচে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।