ব্যবহার
- টাইপ ২ ডায়াবেটিসে, প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে; একা বা অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধ বা ইনসুলিনের সাথে, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি।
- প্রিডায়াবেটিস (রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিন্তু এখনও ডায়াবেটিস নয়) এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমেও (PCOS) ডাক্তার এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
মেটফরমিন মূলত লিভার থেকে রক্তে শর্করা ছাড়ার পরিমাণ কমিয়ে রক্তের শর্করা কমায়। এটি শরীরের নিজের ইনসুলিন ভালোভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করে এবং অন্ত্র থেকে শর্করা শোষণ কিছুটা কমায়। একা খেলে সাধারণত রক্তে শর্করা খুব কমে যায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, সাধারণ ট্যাবলেট: সাধারণত দিনে একবার বা দুইবার ৫০০ mg খাবারের সাথে শুরু করা হয়। পেটের সমস্যা কমাতে ডাক্তার ১ থেকে ২ সপ্তাহ পরপর ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ান। প্রচলিত মাত্রা দিনে ১০০০ থেকে ২০০০ mg, খাবারের সাথে ভাগ করে। সর্বোচ্চ মাত্রা ঔষধের ধরন অনুযায়ী ডাক্তার ঠিক করেন।
- এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট: সাধারণত দিনে একবার রাতের খাবারের সাথে; পুরোটা গিলে খান, গুঁড়া করবেন না বা চিবাবেন না।
- ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলে কম মাত্রা দেওয়া হয়।
- খাবারের সাথে বা খাবারের ঠিক পরে খান। ডাক্তারের সাথে কথা না বলে বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- আয়োডিনযুক্ত এক্স-রে ডাই (কিছু স্ক্যানে ব্যবহৃত): সাধারণত স্ক্যানের আগে বা সময় মেটফরমিন বন্ধ রাখা হয় এবং কিডনি ঠিক থাকলে ৪৮ ঘণ্টা পর আবার শুরু করা হয়।
- মদ্যপান ল্যাকটিক এসিডোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়; বেশি মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
- সিমেটিডিন, ডলুটেগ্রাভির, রানোলাজিন, টপিরামেট ও অ্যাসিটাজোলামাইড এর মাত্রা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- ইনসুলিন ও সালফোনাইলইউরিয়া (যেমন গ্লিক্লাজাইড) এর সাথে খেলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড ও কিছু প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- মেটফরমিনে এলার্জি থাকলে।
- কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে।
- ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস বা রক্তে অন্য কোনো এসিড জমে গেলে।
- গুরুতর সংক্রমণ, তীব্র পানিশূন্যতা, শক, অথবা শরীরে অক্সিজেন কমে যায় এমন অবস্থায় (যেমন গুরুতর হার্ট বা ফুসফুসের অকার্যকারিতা বা সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক)।
- লিভারের গুরুতর রোগ বা মদে আসক্তি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ, বিশেষ করে শুরুর দিকে: বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, পেটে গ্যাস, ক্ষুধামন্দা ও মুখে ধাতব স্বাদ। সাধারণত কয়েক সপ্তাহে কমে যায়। দীর্ঘদিন খেলে ভিটামিন বি১২ কমে যেতে পারে।
ল্যাকটিক এসিডোসিসের (রক্তে এসিড জমে যাওয়া, বিরল কিন্তু গুরুতর) লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- তীব্র বমি বা পেটব্যথা, মাংসপেশিতে টান বা ব্যথা।
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা, দ্রুত বা গভীর শ্বাস।
- শীত শীত লাগা, মাথা ঘোরা, বা হৃৎস্পন্দন ধীর বা অনিয়মিত হওয়া।
মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর এলার্জি হলেও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে মেটফরমিন খাওয়া যায়; অনেক ক্ষেত্রে ইনসুলিন বেশি পছন্দ করা হয়, আর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ খুব জরুরি। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; ডাক্তারের পরামর্শে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত খাওয়া যায়।
সতর্কতা
- শুরু করার আগে এবং অন্তত বছরে একবার কিডনির পরীক্ষা করা হয়।
- তীব্র বমি, ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা হলে, অথবা অপারেশনের আগে, খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
- দীর্ঘদিন খেলে, বিশেষ করে হাত-পা অবশ বা ঝিমঝিম করলে, ভিটামিন বি১২ পরীক্ষা করা হতে পারে।
- ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার সাথে খেলে রক্তে শর্করা কমার লক্ষণ (কাঁপুনি, ঘাম, খিদে, বিভ্রান্তি) চিনে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেক বেশি খেলে ল্যাকটিক এসিডোসিস হতে পারে, যা জরুরি অবস্থা। সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালে যান এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ঔষধ; বাইগুয়ানাইড।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।