ব্যবহার
মেথেনামিন হিপ্পুরেট প্রাপ্তবয়স্কদের বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI) প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে খাওয়ার প্রতিরোধমূলক ঔষধ; চলমান সংক্রমণ সারাতে এটি ব্যবহৃত হয় না। আগে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণ সারাতে হয়।
কীভাবে কাজ করে
অম্লীয় প্রস্রাবে মেথেনামিন ধীরে ধীরে ফরমালডিহাইডে ভাঙে, যা ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। এটি মূলত মূত্রথলিতে ঘটে বলে প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া জমতে দেয় না, আর সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে না বলে ব্যাকটেরিয়া এর প্রতি প্রতিরোধী হয় না। হিপ্পুরেট অংশটি প্রস্রাবকে অম্লীয় রাখতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: ১ g দিনে ২ বার (সকাল ও সন্ধ্যায়) মুখে। পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে খাওয়া যায়। স্বাভাবিক পরিমাণ পানি পান করুন; অনেক বেশি পানি প্রস্রাব পাতলা করে কার্যকারিতা কমাতে পারে। কয়েক মাস পরপর চিকিৎসক প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টাসিড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট, পটাশিয়াম সাইট্রেট ও অ্যাসিটাজোলামাইডের মতো প্রস্রাবকে কম অম্লীয় করে এমন ঔষধ এর কার্যকারিতা কমায়। সালফোনামাইড অ্যান্টিবায়োটিকের (যেমন সালফামেথক্সাজল) সাথে খাবেন না, কারণ প্রস্রাবে দানা তৈরি হতে পারে। প্রস্রাব ক্ষারীয় করে এমন অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার বা লেবুজাতীয় ফল পরামর্শ ছাড়া এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
গুরুতর কিডনি বিকলতা, গুরুতর যকৃতের রোগ, তীব্র পানিশূন্যতা, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস (রক্তে অতিরিক্ত অম্ল) বা গাউট থাকলে, অথবা মেথেনামিনে অ্যালার্জি থাকলে সেবন করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা: বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, ফুসকুড়ি, চুলকানি ও মাথাব্যথা। কদাচিৎ বেশি মাত্রায় মূত্রথলিতে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন বা ব্যথাযুক্ত প্রস্রাব বা প্রস্রাবে রক্ত হতে পারে।
মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে ফুসকুড়ির মতো গুরুতর অ্যালার্জি, প্রস্রাবে রক্ত, অথবা জ্বরের সাথে কোমরে ব্যথা (কিডনির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে) হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় কখনও কখনও ব্যবহার করা হয়, তবে শুধু চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; স্তন্যদানকালে সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
কিডনি বা যকৃতের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে যকৃতের পরীক্ষা করা হতে পারে। সেবনকালে জ্বালাপোড়া, জ্বর বা ঘোলাটে প্রস্রাবের মতো UTI এর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যান; অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনে পেটের অস্বস্তি এবং মূত্রথলিতে জ্বালাপোড়া বা প্রস্রাবে রক্ত হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রনালির অ্যান্টিসেপটিক (UTI প্রতিরোধক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।