ব্যবহার
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গুরুতর সোরিয়াসিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস ও কিছু প্রদাহজনিত রোগে মিথোট্রেক্সেট কম মাত্রায়, সপ্তাহে একবার দেওয়া হয়। বেশি মাত্রায় ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা কিছু ক্যান্সারে, যেমন কিছু লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, স্তন ক্যান্সার ও কোরিওকার্সিনোমায় এটি ব্যবহার করেন। কিছু একটোপিক গর্ভাবস্থাতেও হাসপাতালে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
কোষ ফলিক এসিড ব্যবহার করে DNA তৈরি করতে যে এনজাইম লাগে, এটি সেটি বন্ধ করে। সাপ্তাহিক কম মাত্রায় এটি অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে, যা গিঁট ও চামড়ার প্রদাহের কারণ; বেশি মাত্রায় দ্রুত বাড়ন্ত ক্যান্সার কোষের বিভাজন থামিয়ে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- আর্থ্রাইটিস ও সোরিয়াসিস: সপ্তাহে মাত্র একবার, প্রতি সপ্তাহে একই দিনে, প্রেসক্রিপশনের মাত্রায়। কখনোই প্রতিদিন খাবেন না; ভুল করে প্রতিদিন খাওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে ডাক্তার সাধারণত সপ্তাহের অন্য দিনে খাওয়ার জন্য ফলিক এসিডও দেন।
- ক্যান্সার ও একটোপিক গর্ভাবস্থা: মাত্রা ও সময়সূচি বিশেষজ্ঞ ঠিক করেন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ট্রাইমেথোপ্রিম ও কো-ট্রাইমক্সাজল মিথোট্রেক্সেটের সাথে খেলে অস্থিমজ্জার বিপজ্জনক ক্ষতি হতে পারে, তাই এড়িয়ে চলতে হবে।
- আইবুপ্রোফেন ও ডাইক্লোফেনাকের মতো NSAID, পেনিসিলিন, প্রোবেনেসিড এবং ওমিপ্রাজলের মতো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর বেশি মাত্রায় মিথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- মদ ও লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন অন্য ঔষধ (যেমন লেফলুনোমাইড) লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
- চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলতে হবে।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থা, অথবা নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়া সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা (নারী বা পুরুষ)।
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ, বা নিয়মিত অনেক মদ্যপান।
- শ্বেতকণিকা বা প্লেটলেট কম বা গুরুতর রক্তস্বল্পতার মতো রক্তের রোগ থাকলে।
- যক্ষ্মাসহ গুরুতর সক্রিয় সংক্রমণ, বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, মুখে ঘা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, চুল সামান্য পাতলা হওয়া ও পেটের গোলমাল, প্রায়ই সাপ্তাহিক ডোজের পরের এক-দুই দিন।
গলা ব্যথা, জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত, নতুন শুকনো কাশি বা শ্বাসকষ্ট, মুখে অনেক বা গুরুতর ঘা, তীব্র পাতলা পায়খানা বা বমি, চামড়া বা চোখ হলুদ বা গাঢ় প্রস্রাব, অথবা ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন। ভুল করে সপ্তাহে একবারের বেশি খেয়ে ফেললেও সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভপাত ও গুরুতর জন্মগত ত্রুটি ঘটাতে পারে। চিকিৎসার সময় এবং বন্ধ করার পর কয়েক মাস (প্রায়ই ৩ থেকে ৬ মাস; ডাক্তারের পরামর্শ মানুন) নারী ও পুরুষ দুজনকেই নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। এই ঔষধ চলাকালে বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (ব্লাড কাউন্ট, লিভার ও কিডনি পরীক্ষা) অত্যন্ত জরুরি। মদ এড়িয়ে চলুন বা খুব কম রাখুন। যেকোনো ডাক্তার বা দাঁতের ডাক্তারকে জানান যে আপনি মিথোট্রেক্সেট খান। জলবসন্ত বা হারপিস জোস্টার আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, আর সংস্পর্শে এলে জানান। ট্যাবলেট ধরার পর হাত ধুয়ে নিন; গর্ভবতী নারীরা ভাঙা ট্যাবলেট ধরবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন, যেমন সপ্তাহে একবারের বদলে প্রতিদিন খাওয়া, বিপজ্জনক এবং মুখে গুরুতর ঘা, রক্তপাত, সংক্রমণ ও অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন; হাসপাতালে এর নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (ফলিনিক এসিড) আছে, যা দ্রুত দিলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিমেটাবোলাইট (ফলিক এসিড বিরোধী); রোগ নিয়ন্ত্রণকারী বাতের ঔষধ (DMARD) ও ক্যান্সারের ঔষধ।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।