ব্যবহার
মিথাইল প্রেডনিসোলোন সোডিয়াম সাকসিনেট হলো স্টেরয়েড মিথাইলপ্রেডনিসোলোনের ইনজেকশন রূপ। যখন দ্রুত ও শক্তিশালী প্রদাহরোধী প্রভাব দরকার, তখন এটি ব্যবহার হয়, যেমন:
- তীব্র অ্যালার্জি ও হাঁপানির তীব্র টান (জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি)
- মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
- লুপাস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ভাসকুলাইটিস ও অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগের তীব্র অবস্থা
- ত্বকের গুরুতর রোগ
- প্রতিস্থাপিত অঙ্গ শরীর প্রত্যাখ্যান করলে
- অন্যান্য গুরুতর অবস্থা, যখন ট্যাবলেট খাওয়া সম্ভব নয় বা দ্রুত বেশি মাত্রা দরকার
কীভাবে কাজ করে
মিথাইলপ্রেডনিসোলোন একটি কর্টিকোস্টেরয়েড, যা শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন কর্টিসলের মতো তবে অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে এবং শরীরের ফোলা, লালচে ভাব ও প্রদাহ কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তার বা নার্স এটি শিরায় ইনজেকশন বা ধীরগতির স্যালাইন হিসেবে, অথবা মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে দেন। মাত্রা রোগের উপর নির্ভর করে এবং ডাক্তারের নির্দেশমতো দেওয়া হয়। খুব বেশি মাত্রা (পালস থেরাপি) অন্তত ৩০ মিনিট ধরে ধীরে স্যালাইনে দেওয়া হয়, প্রায়ই কয়েক দিন দিনে একবার। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশমতো। দীর্ঘ কোর্সের পর স্টেরয়েড হঠাৎ বন্ধ না করে ধীরে ধীরে কমাতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো এনএসএআইডি ব্যথানাশক পাকস্থলীর ঘা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ফুরোসেমাইডের মতো প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ ও অ্যামফোটেরিসিন বি পটাশিয়াম আরও কমাতে পারে।
- এটি রক্তে শর্করা বাড়ায়, তাই ডায়াবেটিসের ঔষধের মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
- কিটোকোনাজোল, ক্লারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির ও আরও কিছু ঔষধ এর প্রভাব বাড়াতে পারে; রিফামপিসিন, ফেনিটোইন ও কারবামাজেপিন কমাতে পারে।
- এটি ওয়ারফারিনের প্রভাব বদলাতে পারে।
- বেশি মাত্রায় চলাকালীন জীবন্ত টিকা দেওয়া যাবে না।
- সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে রগ (টেন্ডন) ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- মিথাইলপ্রেডনিসোলোন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি। কিছু শক্তিতে গরুর দুধ থেকে তৈরি ল্যাকটোজ থাকে, তাই গরুর দুধের প্রোটিনে অ্যালার্জি থাকলে দেওয়া যাবে না।
- সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া ছত্রাক সংক্রমণ, যদি না তার চিকিৎসা চলে
- রোগ প্রতিরোধ কমানোর মতো বেশি মাত্রা পাওয়া ব্যক্তিদের জীবন্ত টিকা
- মেরুদণ্ডে (ইন্ট্রাথেকাল বা এপিডুরাল) ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া যাবে না
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প দিনের কোর্সে রক্তে শর্করা বাড়া, মেজাজ পরিবর্তন, ঘুমের সমস্যা, ক্ষুধা বাড়া, রক্তচাপ বাড়া, শরীরে পানি জমা, পেটের অস্বস্তি, মুখে ধাতব স্বাদ ও মুখ লাল হওয়া দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ ব্যবহারে ওজন বাড়া, গোল মুখ, পাতলা ত্বক ও সহজে কালশিটে পড়া, হাড় দুর্বল, মাংসপেশি দুর্বল, ছানি, গ্লুকোমা, সংক্রমণের ঝুঁকি ও শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড তৈরি কমে যাওয়া হতে পারে।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- বুকে ব্যথা, অনিয়মিত বা খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বা অজ্ঞান হওয়া (বিশেষ করে দ্রুত বেশি মাত্রার স্যালাইনে)
- মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা গায়ে র্যাশ
- কালো পায়খানা, রক্তবমি বা তীব্র পেটব্যথা
- জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ
- মেজাজের তীব্র পরিবর্তন, বিভ্রান্তি, অথবা নেই এমন কিছু দেখা বা শোনা
- হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, তবেই এটি দেওয়া হয়; দীর্ঘ বা বেশি মাত্রার ব্যবহার শিশুর বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; অল্প দিনের কোর্সে সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চলে, তবে বিশেষ করে বেশি মাত্রায় ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিউর, সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক, পাকস্থলীর ঘা, অস্টিওপোরোসিস, গ্লুকোমা, মৃগীরোগ, লিভার বা কিডনির রোগ অথবা মানসিক রোগের ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
- আগে যক্ষ্মা বা সম্প্রতি কোনো সংক্রমণ হয়ে থাকলে, বা জলবসন্ত বা হামে আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে এসে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- রক্তের শর্করা, রক্তচাপ ও পটাশিয়াম পরীক্ষা করা হতে পারে।
- মাথায় আঘাতের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয় না।
- দীর্ঘ ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না; ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি মাত্রায় কদাচিৎ গুরুতর ক্ষতি হয়, তবে বারবার বেশি মাত্রায় রক্তে শর্করা বাড়া, শরীরে লবণ ও পানি জমা, পটাশিয়াম কমে যাওয়া ও অন্যান্য স্টেরয়েডজনিত সমস্যা হতে পারে। হাসপাতালে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (গ্লুকোকর্টিকয়েড)।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তরলের সাথে মেশানোর পর প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।