বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Metoclopramide Hydrochloride

  • 18 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 17 টি কোম্পানি

ব্যবহার

প্রাপ্তবয়স্কদের বমি বমি ভাব ও বমি অল্প সময়ের জন্য প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় মেটোক্লোপ্রামাইড ব্যবহার হয়, যেমন:

  • অস্ত্রোপচারের পর বমি বমি ভাব ও বমি;
  • রেডিওথেরাপি বা ক্যান্সারের চিকিৎসার কিছুদিন পর দেখা দেওয়া বমি;
  • মাইগ্রেনের সময় বমি বমি ভাব (এটি ব্যথার ট্যাবলেটকেও দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে)।

পাকস্থলী ধীরে খালি হওয়ার সমস্যায় (গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস), যেমন ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে, বিশেষজ্ঞরা কখনো কখনো এটি দেন। শিশুদের ক্ষেত্রে অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে এবং শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার হয়।

কীভাবে কাজ করে

মস্তিষ্কের যে অংশ বমির সংকেত দেয়, সেখানে মেটোক্লোপ্রামাইড ডোপামিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহককে বাধা দেয়। এটি পাকস্থলী ও অন্ত্রের উপরের অংশে খাবার দ্রুত এগিয়ে নিতেও সাহায্য করে, ফলে পেট ফাঁপা ও বমির ভাব কমে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে সর্বোচ্চ তিনবার ১০ mg, খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে। সাধারণত দিনে ৩০ mg এর বেশি নয়। ডাক্তার অন্যভাবে না বললে সাধারণত ৫ দিনের বেশি খাওয়া হয় না।

বয়স্ক এবং কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে ডাক্তার কম মাত্রা দিতে পারেন।

শিশু: শুধু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, ওজন হিসাব করে। ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে দেওয়া যাবে না।

ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন; সাপোজিটরি ও নাকের স্প্রে শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।

এক ডোজ খাওয়ার পর বমি হয়ে গেলেও দুই ডোজের মাঝে অন্তত ৬ ঘণ্টা বিরতি রাখুন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • লেভোডোপা ও পারকিনসন রোগের অন্য ঔষধ: একটি আরেকটির কাজে বাধা দেয়।
  • অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধ: অস্বাভাবিক নড়াচড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
  • অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ ও ঘুম আনে এমন ঔষধ: ঝিমুনি বাড়ে।
  • অপিওয়েড ব্যথানাশক ও হায়োসিন বিউটাইল ব্রোমাইড: অন্ত্রে এর কাজ কমাতে পারে।
  • কিছু বিষণ্ণতার ঔষধ (যেমন ফ্লুক্সেটিন বা সারট্রালিন): খুব কম ক্ষেত্রে সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি।

আপনি যে সব ঔষধ খান, তা ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

কারা খাবেন না

  • পাকস্থলী বা অন্ত্রে বাধা, রক্তপাত বা ছিদ্র থাকলে, অথবা অন্ত্রের অস্ত্রোপচারের ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে
  • পারকিনসন রোগ
  • আগে এই বা এ ধরনের ঔষধে অস্বাভাবিক নড়াচড়া (টারডিভ ডিসকাইনেসিয়া) হয়ে থাকলে
  • মৃগীরোগ
  • ফিওক্রোমোসাইটোমা (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির একটি বিরল টিউমার)
  • ১ বছরের কম বয়সী শিশু
  • মেটোক্লোপ্রামাইডে এলার্জি

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ: ঝিমুনি, ক্লান্তি, অস্থিরতা, ডায়রিয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও মন খারাপ থাকা।

মুখ, চোখ, চোয়াল বা ঘাড়ের পেশিতে হঠাৎ খিঁচুনি হতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও কম বয়সীদের। দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খেলে মুখ ও জিহ্বার ধীর, নিয়ন্ত্রণহীন নড়াচড়া (টারডিভ ডিসকাইনেসিয়া) হতে পারে, যা স্থায়ী হতে পারে।

মুখ, জিহ্বা, চোখ বা ঘাড়ের নিয়ন্ত্রণহীন নড়াচড়া; পেশি শক্ত হয়ে উচ্চ জ্বর ও বিভ্রান্তি; হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হওয়া; অজ্ঞান হওয়া; অথবা মুখ ফুলে শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় সবচেয়ে কম সময়ের জন্য মেটোক্লোপ্রামাইড দেওয়া যায়। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে খেলে খুব কম ক্ষেত্রে নবজাতকের নড়াচড়ার সমস্যা হতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খাবেন।

সতর্কতা

  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ৫ দিনের বেশি খাবেন না।
  • বয়স্ক এবং কিডনি বা লিভারের রোগে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
  • হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, পটাশিয়াম কম বা বিষণ্ণতা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
  • ঝিমুনি হতে পারে; এমন হলে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খেলে ঝিমুনি, বিভ্রান্তি, খিটখিটে ভাব এবং মুখ ও শরীরের অস্বাভাবিক নড়াচড়া হতে পারে। দেরি না করে হাসপাতালে যান; এই নড়াচড়ার চিকিৎসা আছে।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

বমিরোধী ও পরিপাকতন্ত্রের গতি বাড়ানোর ঔষধ (ডোপামিন অ্যান্টাগনিস্ট)।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সিরাপ বা ড্রপ ফ্রিজে জমাবেন না।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Metoclopramide Hydrochloride এর ব্র্যান্ড

16 টি ব্র্যান্ড

Metoclopramide Hydrochloride যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

2 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।