ব্যবহার
মাইকাফাঙ্গিন একটি ছত্রাকবিরোধী ঔষধ, যা শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। হাসপাতালে এটি গুরুতর ক্যান্ডিডা (ইস্ট) সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন রক্তে ক্যান্ডিডা (ক্যান্ডিডিমিয়া), অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সংক্রমণ এবং খাদ্যনালীর ক্যান্ডিডা সংক্রমণ। স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মতো অবস্থায় যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল, তাদের ছত্রাক সংক্রমণ প্রতিরোধেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
মাইকাফাঙ্গিন একিনোক্যান্ডিন গোষ্ঠীর ঔষধ। ছত্রাকের কোষপ্রাচীর তৈরিতে যে এনজাইম দরকার, এটি সেটি আটকে দেয়। মজবুত প্রাচীর না থাকলে ছত্রাক কোষ ভেঙে মারা যায়। মানুষের কোষে এ ধরনের কোষপ্রাচীর নেই, তাই ঔষধটি ছত্রাককেই লক্ষ্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক বা নার্স ধীরগতির ইনফিউশন হিসেবে শিরায় এটি দেন, সাধারণত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে, দিনে একবার। সংক্রমণের ধরন, ওজন (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে) ও সাড়া অনুযায়ী চিকিৎসক মাত্রা ও মেয়াদ ঠিক করেন। লক্ষণ ও রক্ত পরীক্ষার ফল ভালো হওয়ার পরেও সাধারণত কিছুদিন চিকিৎসা চলে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এটি রক্তে সিরোলিমাস, নিফেডিপিন ও ইট্রাকোনাজলের মাত্রা বাড়াতে পারে; মাত্রা সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ লাগতে পারে।
- অন্য সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান, বিশেষ করে যেগুলো লিভার বা রক্তকোষে প্রভাব ফেলে।
কারা খাবেন না
- মাইকাফাঙ্গিন বা অন্য একিনোক্যান্ডিনে (যেমন ক্যাসপোফাঙ্গিন বা অ্যানিডুলাফাঙ্গিন) অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, জ্বর, ফুসকুড়ি, লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া, পটাসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া, শ্বেতকণিকা কমে যাওয়া এবং স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা হতে পারে। ইনফিউশনের সময় মুখ লাল হওয়া, চুলকানি বা রক্তচাপ কমে যেতে পারে।
শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, তীব্র ফুসকুড়ি বা ফোসকা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, অথবা ফ্যাকাশে ত্বকসহ হঠাৎ ক্লান্তি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন (সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান); এগুলো গুরুতর অ্যালার্জি, লিভারের ক্ষতি বা লোহিত কণিকা ভাঙার লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। চিকিৎসক উপকার সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই এটি দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যাবে কিনা তা চিকিৎসক জানাবেন।
সতর্কতা
চিকিৎসার সময় লিভার পরীক্ষা ও রক্তকোষ পরীক্ষা করা হয়। প্রাণীর উপর দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় লিভারে টিউমার দেখা গেছে, তাই বিশেষ করে লিভারের রোগে চিকিৎসক বিষয়টি বিবেচনা করেন। কিডনির সমস্যা, লিভারের রোগ বা বিরল বংশগত শর্করা অসহিষ্ণুতা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত সেবনের সম্ভাবনা কম। বেশি দেওয়া হলে রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। ডায়ালাইসিসে এটি শরীর থেকে বের হয় না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ছত্রাকবিরোধী ঔষধ; একিনোক্যান্ডিন।
সংরক্ষণ
হাসপাতালে ব্যবহৃত ঔষধ: প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন, সাধারণত ২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে। তৈরি করা দ্রবণ ফার্মেসির নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।