ব্যবহার
মাইকোনাজল ছত্রাক ও ইস্টজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়:
- ক্রিম: দাদ, পায়ের আঙুলের ফাঁকে ছত্রাক (টিনিয়া পেডিস), কুঁচকির ছত্রাক (টিনিয়া ক্রুরিস), ত্বকের ভাঁজের ছত্রাক এবং ত্বকের ইস্ট (ক্যান্ডিডা) সংক্রমণ, ইস্টযুক্ত ন্যাপি র্যাশসহ। হাইড্রোকর্টিসনযুক্ত ক্রিম প্রদাহযুক্ত ও চুলকানিযুক্ত র্যাশও কমায়।
- ওরাল জেল: মুখ ও গলার থ্রাশ (ক্যান্ডিডা সংক্রমণ)।
- যোনিপথে দেওয়ার ট্যাবলেট (সাধারণত মেট্রোনিডাজলের সাথে): যোনির থ্রাশ ও মিশ্র সংক্রমণে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
কীভাবে কাজ করে
মাইকোনাজল একটি অ্যাজোল ছত্রাকনাশক। ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের অত্যাবশ্যক উপাদান এরগোস্টেরল তৈরি বন্ধ করে দেয়, ফলে ছত্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও বাড়তে পারে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ক্রিম ২%: আক্রান্ত ত্বক ও তার চারপাশে দিনে ২ বার পাতলা করে লাগান। র্যাশ সেরে যাওয়ার পরও ১ থেকে ২ সপ্তাহ চালিয়ে যান, যাতে আবার না হয়; মোট চিকিৎসা সাধারণত ২ থেকে ৬ সপ্তাহ।
- ওরাল জেল ২০ mg/g, প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু: খাবারের পর দিনে ৪ বার ২.৫ ml। গিলে ফেলার আগে জেল যতক্ষণ সম্ভব মুখে রাখুন। লক্ষণ চলে যাওয়ার পরও অন্তত ১ সপ্তাহ চালিয়ে যান।
- ওরাল জেল, ৪ থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশু: খাওয়ানোর পর দিনে ৪ বার ১.২৫ ml। প্রতিটি মাত্রা অল্প অল্প করে পরিষ্কার আঙুল দিয়ে আক্রান্ত জায়গায় লাগান। কখনও গলার ভেতরের দিকে দেবেন না, এতে শ্বাসনালীতে আটকে যেতে পারে।
- যোনিপথে দেওয়ার ট্যাবলেট: ডাক্তারের পরামর্শ বা প্যাকের নির্দেশ অনুযায়ী।
ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওরাল জেল শরীরে শোষিত হয় এবং ওয়ারফারিনের প্রভাব অনেক বাড়িয়ে গুরুতর রক্তপাত ঘটাতে পারে; ত্বকে বা যোনিপথে ব্যবহারেও এমন দেখা গেছে। সিমভাস্টাটিন, লোভাস্টাটিন, পিমোজাইড, কুইনিডিন, অরগোটামিন, ট্রায়াজোলাম ও খাওয়ার মিডাজোলামের মতো কিছু ঔষধের সাথে ওরাল জেল একেবারেই খাওয়া যাবে না, কারণ এটি এদের মাত্রা বাড়ায়। ফেনিটোইন ও গ্লিমেপিরাইডের মতো ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটের মাত্রাও বাড়তে পারে। যোনিপথের ঔষধ ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রামের ক্ষতি করতে পারে।
কারা খাবেন না
- মাইকোনাজল, অন্য অ্যাজোল ছত্রাকনাশক বা কোনো উপাদানে এলার্জি
- ওরাল জেল: ৪ মাসের কম বয়সী শিশু, বা যে শিশু ভালোভাবে গিলতে পারে না
- ওরাল জেল: লিভারের রোগ, অথবা উপরে বলা যেসব ঔষধের সাথে একসাথে খাওয়া নিষেধ
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ক্রিম: লাগানোর জায়গায় হালকা জ্বালা, হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি, চুলকানি বা লাল হওয়া। ওরাল জেল: বমি বমি ভাব, বমি, মুখে খারাপ স্বাদ, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা মুখে অস্বস্তি।
তীব্র এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ), ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া, শিশুর গলায় আটকে যাওয়া, অথবা ওয়ারফারিন খেলে অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বকের ক্রিম খুব কম শোষিত হয় বলে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত ব্যবহার করা যায়; দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে লাগাবেন না। ডাক্তার না বললে গর্ভাবস্থায় ওরাল জেল এড়িয়ে চলুন, এবং দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। গর্ভাবস্থায় যোনিপথের ঔষধ শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ও সাবধানে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- ক্রিম শুধু ত্বকে এবং জেল শুধু মুখে, নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। ক্রিম চোখে যেন না লাগে।
- লক্ষণ কমলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
- হাইড্রোকর্টিসনযুক্ত ক্রিম শুধু অল্প দিনের জন্য; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন, মুখের বড় অংশে বা শিশুদের উপর ব্যবহার করবেন না।
- ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, তোয়ালে অন্যের সাথে ভাগাভাগি করবেন না।
- মুখের থ্রাশে রাতে কৃত্রিম দাঁত খুলে পরিষ্কার করুন; কৃত্রিম দাঁতের গায়েও জেল লাগানো যায়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেক বেশি ক্রিম বা জেল গিলে ফেললে বমি ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে শিশু বা ওয়ারফারিন খান এমন কেউ হলে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যাজোল ছত্রাকনাশক (ত্বক, মুখ ও যোনিপথে ব্যবহারের জন্য)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। টিউবের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।