ব্যবহার
মাইকোনাজল একটি ছত্রাকনাশক ঔষধ। ওরাল জেল মুখ ও গলার ছত্রাক (ক্যান্ডিডা) সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যাকে ওরাল থ্রাশ বলে। ক্রিম দাদ, পায়ের আঙুলের ফাঁকের ছত্রাক, কুঁচকির চুলকানি, ত্বকের ভাঁজে ছত্রাক সংক্রমণ এবং ইস্টে আক্রান্ত ডায়াপার র্যাশে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
মাইকোনাজল ছত্রাককে আরগোস্টেরল তৈরি করতে বাধা দেয়, যা ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ছাড়া ছত্রাকের কোষ ফুটো হয়ে মারা যায় এবং সংক্রমণ সেরে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ওরাল জেল, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ৪ বার খাবারের পর ২.৫ ml। জেল ঘা এর জায়গায় লাগিয়ে যতক্ষণ সম্ভব মুখে রেখে তারপর গিলে ফেলুন। নকল দাঁত থাকলে সেটিও পরিষ্কার করে জেল লাগাতে হবে।
- ওরাল জেল, শিশু ও ৪ মাসের বেশি বয়সী বাচ্চা: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। বাচ্চাদের পরিষ্কার আঙুলে অল্প অল্প করে মুখের ভেতরে লাগান, কখনও গলার পেছনে নয়।
- লক্ষণ চলে যাওয়ার পরও প্রায় ৭ দিন ওরাল জেল চালিয়ে যান।
- ক্রিম: আক্রান্ত ত্বক ও তার চারপাশে দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগান। ত্বক ভালো হওয়ার পরও প্রায় ১০ দিন লাগিয়ে যান, সব মিলিয়ে সাধারণত ২ থেকে ৬ সপ্তাহ।
ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে নিন। ক্রিম চোখে বা মুখে লাগাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওরাল জেলের কিছু অংশ শরীরে শোষিত হয়, তাই অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এটি ওয়ারফারিন ও এ ধরনের রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব অনেক বাড়িয়ে রক্তপাত ঘটাতে পারে। এছাড়া সিমভাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন, ফেনিটোইন, কিছু ডায়াবেটিসের ঔষধ (যেমন গ্লিবেনক্লামাইড), মিডাজোলাম, ট্রায়াজোলাম, সিসাপ্রাইড, পিমোজাইড, কুইনিডিন ও আরগট জাতীয় ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে। ক্রিমে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম, তবে ওয়ারফারিন খেলে ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- মাইকোনাজল, অন্য অ্যাজোল ছত্রাকনাশক বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- ওরাল জেল: ৪ মাসের কম বয়সী বাচ্চা, বা যে শিশু ভালোভাবে গিলতে পারে না, কারণ গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।
- ওরাল জেল: লিভারের রোগ থাকলে।
- ওরাল জেল: যারা সিসাপ্রাইড, পিমোজাইড, কুইনিডিন, সিমভাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন, ট্রায়াজোলাম, মুখে খাওয়ার মিডাজোলাম বা আরগট জাতীয় ঔষধ খান।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ওরাল জেল: বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, মুখে অস্বাভাবিক স্বাদ ও অস্বস্তি। ক্রিম: লাগানোর জায়গায় হালকা জ্বালা, চুলকানি, লাল হওয়া বা অস্বস্তি।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা গায়ে র্যাশের মতো তীব্র এলার্জি হলে, বাচ্চার গলায় আটকে গেলে, অথবা রক্ত পাতলা করার ঔষধ খাওয়ার সময় অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শে সাধারণত গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ক্রিম ব্যবহার করা যায়। ডাক্তার না বললে গর্ভাবস্থায় ওরাল জেল এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে ক্রিম লাগালে খাওয়ানোর আগে মুছে ফেলুন।
সতর্কতা
ওয়ারফারিন খেলে ওরাল জেল ব্যবহারের সময় ডাক্তারকে ঘন ঘন রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করতে হবে। নিয়মমতো ব্যবহারের পরও সংক্রমণ না সারলে ডাক্তার দেখান। আক্রান্ত ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন এবং তোয়ালে ভাগাভাগি করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণ জেল বা ক্রিম গিলে ফেললে বমি ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যাজোল ছত্রাকনাশক।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।