ব্যবহার
মিফেপ্রিস্টোন মিসোপ্রোস্টলের সাথে মিলে প্রাথমিক গর্ভাবস্থার ঔষধের মাধ্যমে সমাপ্তি এবং মাসিক নিয়মিতকরণে (এমআর) ব্যবহার হয়, দেশের আইনি সীমার মধ্যে এবং শুধুমাত্র যোগ্য ডাক্তার বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবাদানকারীর তত্ত্বাবধানে। কিছু প্রক্রিয়ার আগে জরায়ুমুখ নরম ও খোলাতে, এবং গর্ভে শিশুর মৃত্যু হলে প্রসব শুরু করতেও ডাক্তার এটি ব্যবহার করেন।
কীভাবে কাজ করে
গর্ভাবস্থা টিকিয়ে রাখার হরমোন প্রোজেস্টেরনের কাজ এটি আটকে দেয়। এতে জরায়ুর আস্তরণ আলগা হয়, জরায়ুমুখ নরম হয়, এবং জরায়ু মিসোপ্রোস্টলে বেশি সাড়া দেয়, যা পরে সংকোচন ঘটায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী, এবং শুধু স্বাস্থ্যসেবাদানকারী গর্ভের বয়স ও গর্ভ জরায়ুর ভেতরে আছে কি না নিশ্চিত করার পর। প্রচলিত নিয়মে মুখে একবার ২০০ mg ট্যাবলেট, তারপর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর সেবাদানকারীর নির্দেশ অনুযায়ী মিসোপ্রোস্টল। চিকিৎসা তত্ত্বাবধান ছাড়া নিজে নিজে খাবেন না। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে কি না নিশ্চিত হতে ফলো-আপে যেতে হবে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, ইরাইথ্রোমাইসিন ও জাম্বুরার (গ্রেপফ্রুট) রস এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
- এটি কর্টিকোস্টেরয়েডের (যেমন প্রেডনিসোলন) কাজ আটকে দেয়; দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খেলে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
- ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধে বেশি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ (একটোপিক প্রেগন্যান্সি) সন্দেহ বা নিশ্চিত হলে।
- দীর্ঘমেয়াদি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অকার্যকারিতা, বা দীর্ঘদিন কর্টিকোস্টেরয়েড চিকিৎসা চললে।
- চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে নেই এমন তীব্র হাঁপানি।
- রক্তক্ষরণজনিত রোগ বা রক্ত পাতলা করার ঔষধ চললে।
- বংশগত পরফাইরিয়া (একটি বিরল রক্তের রোগ)।
- জরায়ুতে আইইউডি থাকলে (আগে খুলে ফেলতে হবে)।
- ঔষধের পদ্ধতির জন্য অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি গর্ভকাল, বা মিফেপ্রিস্টোনে এলার্জি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রত্যাশিত: যোনিপথে রক্তপাত ও পেট কামড়ানো, সাধারণত মাসিকের চেয়ে বেশি, মূলত মিসোপ্রোস্টলের পর। এছাড়া সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, এবং মিসোপ্রোস্টল খাওয়ার দিন জ্বর বা কাঁপুনি।
নিচের যেকোনোটি হলে সাথে সাথে চিকিৎসা নিন:
- খুব বেশি রক্তপাত, যেমন টানা দুই ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় দুটি মোটা প্যাড ভিজে যাওয়া।
- ৩৮°C বা তার বেশি জ্বর ২৪ ঘণ্টার বেশি থাকলে, বা মিসোপ্রোস্টলের এক দিন বা তার পরে শুরু হলে।
- পেটে তীব্র ব্যথা, যোনিপথে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, বা খুব অসুস্থ, দুর্বল বা অজ্ঞান অজ্ঞান লাগা।
- মিসোপ্রোস্টলের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো রক্তপাত না হওয়া, বা গর্ভাবস্থার লক্ষণ থেকে যাওয়া।
- মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, বা শ্বাসকষ্ট।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভাবস্থা সমাপ্ত করতে ব্যবহার হয়। চিকিৎসার পরও গর্ভ থেকে গেলে শিশুর ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, তাই ফলো-আপ পরীক্ষা অপরিহার্য। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে সেবাদানকারীকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- শুধু চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে এবং জরুরি চিকিৎসার সুযোগ আছে এমন অবস্থায় ব্যবহার করুন।
- রক্তস্বল্পতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে, অথবা ৩৫ বছরের বেশি বয়সে ধূমপান করলে সেবাদানকারীকে জানান।
- আরএইচ নেগেটিভ রক্তের গ্রুপ হলে অ্যান্টি-ডি ইনজেকশন লাগতে পারে।
- খুব দ্রুত আবার গর্ভধারণের ক্ষমতা ফিরে আসে; সাথে সাথেই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি শুরু করা যায়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির ঘাটতির লক্ষণ, যেমন দুর্বলতা, নিম্ন রক্তচাপ ও বমি হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিপ্রোজেস্টোজেন (প্রোজেস্টেরন রিসেপ্টর ব্লকার)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।