ব্যবহার
মিলনাসিপ্রান হাইড্রোক্লোরাইড ফাইব্রোমায়ালজিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অসুখ, যাতে সারা শরীরে পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা হয়। কিছু দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতা (মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার) চিকিৎসাতেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
মিলনাসিপ্রান একটি সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SNRI)। এটি স্নায়ুকোষকে সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন আবার টেনে নিতে বাধা দিয়ে মস্তিষ্কে এদের মাত্রা বাড়ায়। এই রাসায়নিকগুলো মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মেরুদণ্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যথার সংকেত কমায়, ফলে ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ব্যথা কমতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো ঠিকঠাক সেবন করুন। বমিভাবের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়; সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ মাত্রা দিনে দুই ভাগে দেওয়া হয়। পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে খান। কিডনির রোগে কম মাত্রা লাগে। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
MAO ইনহিবিটর (লিনেজোলিড ও মিথিলিন ব্লুসহ) এর সাথে বা সেটি বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে খাবেন না, এবং মিলনাসিপ্রান বন্ধের ৫ দিন পর MAO ইনহিবিটর শুরু করুন। অন্য সেরোটোনিনজাত ঔষধ (SSRI, অন্য SNRI, ট্রামাডল, ট্রিপটান, লিথিয়াম, সেন্ট জনস ওয়ার্ট) সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়। অ্যাসপিরিন, NSAID, ওয়ারফারিন ও ক্লোপিডোগ্রেল রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্লোনিডিনের কার্যকারিতা কমতে পারে। ইনজেকশনে দেওয়া ডিজক্সিন রক্তচাপ ও স্পন্দনে পরিবর্তন আনতে পারে। অ্যাড্রেনালিন ও নরঅ্যাড্রেনালিনের সাথে রক্তচাপ বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
মিলনাসিপ্রানে অ্যালার্জি থাকলে, MAO ইনহিবিটর খাচ্ছেন বা সম্প্রতি খেয়েছেন, অথবা অনিয়ন্ত্রিত ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে সেবন করবেন না। শিশুদের জন্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বমিভাব, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ঘোরা, ঘুমের সমস্যা, গরম লাগা, ঘাম, দ্রুত হৃদ্স্পন্দন, রক্তচাপ বৃদ্ধি, মুখ শুকানো, বমি ও প্রস্রাবে কষ্ট। পুরুষদের অণ্ডকোষে ব্যথা বা বীর্যপাতে সমস্যা হতে পারে।
আত্মহত্যা বা নিজেকে আঘাতের চিন্তা, অস্থিরতা, হ্যালুসিনেশন, উচ্চ জ্বর, পেশি শক্ত হওয়া, দ্রুত স্পন্দন ও বিভ্রান্তি (সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে), তীব্র মাথাব্যথাসহ খুব উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাভাবিক রক্তপাত, খিঁচুনি, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা হঠাৎ চোখে ব্যথা ও দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু চিকিৎসক উপকার বেশি মনে করলে ব্যবহার করুন; গর্ভাবস্থার শেষদিকে ব্যবহারে নবজাতকের সমস্যা ও প্রসবের পর রক্তক্ষরণ বাড়তে পারে। এটি বুকের দুধে যেতে পারে; স্তন্যদানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
২৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসা শুরু বা মাত্রা পরিবর্তনের সময় আত্মহত্যার চিন্তার ঝুঁকি বাড়তে পারে; পরিবারের সদস্যদের মেজাজের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা উচিত। নিয়মিত রক্তচাপ ও হৃদ্স্পন্দন পরীক্ষা করুন। হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, যকৃৎ বা কিডনির রোগ, গ্লুকোমা, প্রস্রাবের সমস্যা বা বেশি মদ্যপানের কথা চিকিৎসককে জানান। বিশেষ করে বয়স্কদের রক্তে সোডিয়াম কমে যেতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনে বমি, উচ্চ রক্তচাপ, দ্রুত হৃদ্স্পন্দন, তন্দ্রা, খিঁচুনি ও সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SNRI)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।