ব্যবহার
প্রাপ্তবয়স্কদের ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার (অতিসক্রিয় মূত্রথলি) চিকিৎসায় মিরাবেগ্রন ব্যবহার হয়, যার লক্ষণ:
- হঠাৎ প্রবল প্রস্রাবের বেগ;
- স্বাভাবিকের চেয়ে বারবার প্রস্রাব হওয়া;
- টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া।
কীভাবে কাজ করে
মিরাবেগ্রন একটি বিটা-৩ অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট। এটি মূত্রথলির পেশির বিটা-৩ রিসেপ্টরে কাজ করে পেশিকে শিথিল রাখে, ফলে মূত্রথলি বেশি প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে এবং বেগ কম আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ৫০ mg। কোনো কোনো ডাক্তার দিনে একবার ২৫ mg দিয়ে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর বাড়ান।
- মাঝারি কিডনি বা লিভারের সমস্যায়: প্রায়ই দিনে একবার ২৫ mg, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- শিশু: বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন ছাড়া শিশুদের ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডারে ব্যবহার হয় না।
প্রলম্বিত-কার্যকর (প্রোলংড-রিলিজ) ট্যাবলেটটি পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে। গুঁড়া করবেন না, চিবাবেন না বা ভাঙবেন না। পুরো উপকার পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মিরাবেগ্রন কিছু ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে, যেমন ডিগক্সিন, মেটোপ্রোলল, ফ্লেকাইনাইড, প্রোপাফেনন ও কিছু ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতার ঔষধ; তাই ডাক্তার এদের মাত্রা বদলাতে বা পরীক্ষা করতে পারেন। কিটোকোনাজল বা ক্লারিথ্রোমাইসিনের মতো ঔষধ মিরাবেগ্রনের মাত্রা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে কিডনি বা লিভারের সমস্যায়। মূত্রথলির অ্যান্টিমাসকারিনিক ঔষধের (যেমন সলিফেনাসিন) সাথে খেলে প্রস্রাব আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আপনি যে সব ঔষধ খান, ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- মিরাবেগ্রন বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
- গুরুতর, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
- শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগ বা গুরুতর লিভারের রোগে (সুপারিশ করা হয় না)
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: রক্তচাপ বাড়া, হৃৎস্পন্দন দ্রুত হওয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া এবং গিঁটে ব্যথা।
কম ক্ষেত্রে: বুক ধড়ফড়, র্যাশ, চুলকানি এবং ঠোঁট বা চোখের পাতা ফোলা।
এগুলো হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন: মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফোলা; শ্বাসকষ্ট; একেবারে প্রস্রাব করতে না পারা; তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা বা ঝাপসা দেখার সাথে খুব উচ্চ রক্তচাপ; বা খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তার যথেষ্ট তথ্য নেই, তাই সুপারিশ করা হয় না। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- শুরুর আগে ও চিকিৎসা চলাকালে মাঝে মাঝে রক্তচাপ মাপা উচিত।
- মূত্রথলির মুখ বন্ধ থাকলে (যেমন প্রোস্টেট বড় হওয়ায়) বা মূত্রথলি ঠিকমতো খালি না হলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- হৃৎস্পন্দনের ছন্দের সমস্যা (যেমন লং QT), কিডনি বা লিভারের রোগে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে হৃৎস্পন্দন দ্রুত হওয়া, বুক ধড়ফড় ও রক্তচাপ বাড়তে পারে। ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রথলির খিঁচুনিরোধী ঔষধ (বিটা-৩ অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।