ব্যবহার
মিরোগাবালিন স্নায়ুর ব্যথা (নিউরোপ্যাথিক পেইন) কমাতে ব্যবহার হয়, যেমন:
- ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতির ব্যথা (পায়ে ও পায়ের পাতায় জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন বা তীক্ষ্ণ ব্যথা)।
- হারপিস জস্টার (শিংগলস) সেরে যাওয়ার পরও থেকে যাওয়া ব্যথা (পোস্ট-হারপেটিক নিউরালজিয়া)।
- ডাক্তারের বিবেচনায় অন্যান্য স্নায়ুর ব্যথা।
কীভাবে কাজ করে
মিরোগাবালিন স্নায়ুকোষের একটি অংশে (ক্যালসিয়াম চ্যানেলের আলফা-২-ডেল্টা অংশ) যুক্ত হয়ে অতিসক্রিয় স্নায়ুকে শান্ত করে। এতে ব্যথার সংকেত বহনকারী রাসায়নিক কম বের হয় এবং জ্বালাপোড়া ও তীক্ষ্ণ স্নায়ুর ব্যথা কমে। এটি প্রেগাবালিনের মতো করে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: ডাক্তারের নির্দেশমতো। সাধারণত ৫ mg দিনে ২ বার দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে, প্রায় সপ্তাহে একবার, কার্যকর মাত্রায় বাড়ানো হয়, সাধারণত ১০ থেকে ১৫ mg দিনে ২ বার।
- কিডনির সমস্যা থাকলে কম মাত্রা লাগে, যা ডাক্তার ঠিক করেন।
- শিশুদের জন্য নয়।
খাবারের আগে বা পরে, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খান। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ, লোরাজেপাম জাতীয় ঔষধ, ট্রামাডলের মতো ওপিওয়েড ব্যথানাশক ও ঘুম আনে এমন অ্যান্টিহিস্টামিন ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা বাড়ায় এবং শ্বাস ধীর করে দিতে পারে।
- প্রোবেনেসিড ও সিমেটিডিন এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
- প্রেগাবালিন বা গ্যাবাপেন্টিনের সাথে একসাথে খাবেন না।
কারা খাবেন না
- মিরোগাবালিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, হাত বা পা ফোলা, ওজন বাড়া, ভারসাম্যহীনতা, ঝাপসা দেখা ও কোষ্ঠকাঠিন্য। শুরুতে বা মাত্রা বাড়ানোর সময় এগুলো বেশি হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি শ্বাস ধীর হয়ে যায় বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তীব্র ঝিমুনি বা বিভ্রান্তি হয়, পড়ে গিয়ে আঘাত পান, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলে, অথবা নিজের ক্ষতি করার কোনো চিন্তা আসে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এর ব্যবহার নিয়ে তথ্য কম। ডাক্তার যদি স্পষ্টভাবে মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, তা ছাড়া এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
- মাথা ঘোরা ও ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে; ঔষধটি আপনার ওপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
- বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি; ওঠার সময় সাবধান থাকুন।
- কিডনি রোগে কম মাত্রা ব্যবহার করুন।
- আগে কখনো ঔষধ বা অ্যালকোহলের অপব্যবহারের সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- হার্ট ফেইলিওরে সাবধান থাকুন, কারণ শরীরে পানি জমতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, ভারসাম্যহীনতা, অস্থিরতা ও শ্বাস ধীর হয়ে যেতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
স্নায়ুর ব্যথার জন্য গ্যাবাপেন্টিনয়েড (আলফা-২-ডেল্টা লিগ্যান্ড)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।