ব্যবহার
যাদের প্রদাহনাশক ব্যথার ঔষধ (NSAID) খেতে হয়, তাদের পাকস্থলী ও ডিওডেনামের ঘা প্রতিরোধে এবং ঘা সারাতে মিসোপ্রোস্টল ব্যবহার হয়। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ডাক্তাররা এটি গর্ভাবস্থা ও স্ত্রীরোগসংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন, যেমন প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ বা চিকিৎসা, জরায়ুমুখ প্রস্তুত করা, প্রসববেদনা আনা ও গর্ভপাতের পরবর্তী চিকিৎসা। এই ব্যবহারগুলো শুধু ডাক্তারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি শরীরের প্রাকৃতিক পদার্থ প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন E1 এর মতো। পাকস্থলীতে এটি অ্যাসিড কমায় ও সুরক্ষাকারী আবরণ মজবুত করে। জরায়ুতে এটি মাংসপেশি সংকুচিত করে ও জরায়ুমুখ নরম করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের ঘা প্রতিরোধে: সাধারণত ২০০ মাইক্রোগ্রাম দিনে ২ থেকে ৪ বার খাবারের সাথে, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। গর্ভাবস্থা বা স্ত্রীরোগসংক্রান্ত যেকোনো ব্যবহারে মাত্রা, পদ্ধতি ও সময় ডাক্তার ঠিক করেন এবং চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়; এসব ক্ষেত্রে কখনও নিজে থেকে ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড ডায়রিয়া বাড়াতে পারে; প্রয়োজনে উপযুক্ত অ্যান্টাসিডের জন্য ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
- ডাক্তারের নির্দেশ ছাড়া অক্সিটোসিন বা জরায়ু সংকুচিত করার অন্য ঔষধের সাথে একসাথে ব্যবহার করা যাবে না।
কারা খাবেন না
মিসোপ্রোস্টল বা অন্য প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনে এলার্জি থাকলে। ঘা প্রতিরোধের জন্য গর্ভবতী বা গর্ভবতী হতে পারেন এমন নারীরা খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো, বমি বমি ভাব, পেটে গ্যাস ও মাথাব্যথা। গর্ভাবস্থাসংক্রান্ত ব্যবহারের পর অল্প সময়ের জন্য জ্বর, কাঁপুনি, পেট কামড়ানো ও যোনিপথে রক্তক্ষরণ হওয়া প্রত্যাশিত।
খুব বেশি রক্তক্ষরণ (টানা দুই ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় দুটি বা তার বেশি বড় প্যাড ভিজে যাওয়া), পেট বা তলপেটে না কমা তীব্র ব্যথা, ২৪ ঘণ্টার বেশি জ্বর, অজ্ঞান হওয়া বা খুব অসুস্থ বোধ করা, পানিশূন্যতাসহ তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, অথবা গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
মিসোপ্রোস্টল গর্ভপাত, সময়ের আগে প্রসব ও জন্মগত ত্রুটি ঘটাতে পারে। ঘা প্রতিরোধের জন্য খাওয়ার সময় গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে এমন নারীদের নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে, এবং গর্ভধারণের সন্দেহ হলে খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তার দেখাতে হবে। গর্ভাবস্থায় এটি শুধু ডাক্তার নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণে ব্যবহার করেন। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায় এবং শিশুর ডায়রিয়া হতে পারে; দুধ খাওয়ানো নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- আগে সিজারিয়ান বা জরায়ুর অন্য অপারেশন হয়ে থাকলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের সময় জরায়ু ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি; ডাক্তার তা বিবেচনা করেন।
- অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ, হৃদরোগ বা রক্তনালীর রোগ থাকলে, বা সহজে পানিশূন্যতা হলে সাবধান থাকুন।
- এই ঔষধ অন্য কাউকে দেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তন্দ্রা, কাঁপুনি, জ্বর, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ কমা, তীব্র ডায়রিয়া, পেটব্যথা এবং গর্ভাবস্থায় তীব্র সংকোচন ও রক্তক্ষরণ হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এনালগ (পাকস্থলী সুরক্ষাকারী ও জরায়ু সংকুচিতকারী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আর্দ্রতায় নষ্ট হয় বলে খাওয়ার আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট আসল ব্লিস্টারে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।