ব্যবহার
এটি একটি জীবাণুমুক্ত ঘন দ্রবণ, যাতে পাঁচটি অত্যাবশ্যক ট্রেস এলিমেন্টের মিশ্রণ থাকে, সাধারণত জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম ও ক্রোমিয়াম (পণ্যভেদে উপাদান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে)। যেসব রোগী, শিশুসহ, অন্ত্রের মাধ্যমে যথেষ্ট খাবার খেতে বা শোষণ করতে পারে না এবং শিরার মাধ্যমে খাবার পায়, তাদের দৈনিক চাহিদা মেটাতে এটি শিরাপথে পুষ্টিতে (প্যারেন্টারাল নিউট্রিশন) যোগ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ট্রেস এলিমেন্ট হলো এমন খনিজ যা শরীরের খুব অল্প পরিমাণে দরকার। জিংক বৃদ্ধি, ক্ষত সারা ও রোগপ্রতিরোধে সহায়তা করে; কপার রক্ত তৈরি ও স্নায়ুর জন্য দরকার; ম্যাঙ্গানিজ ও সেলেনিয়াম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন এনজাইমের অংশ; ক্রোমিয়াম শরীরকে গ্লুকোজ ব্যবহারে সাহায্য করে। স্যালাইনের সাথে এগুলো দিলে দীর্ঘমেয়াদি শিরাপথে খাওয়ানোর সময় ঘাটতি প্রতিরোধ হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি হাসপাতালের পণ্য, ডাক্তার, নার্স বা ফার্মাসিস্ট দেন। এটি কখনোই অমিশ্রিত অবস্থায় ইনজেকশন করা যাবে না; প্যারেন্টারাল নিউট্রিশন ব্যাগ বা উপযুক্ত ইনফিউশন তরলে মিশিয়ে ধীরে শিরায় দেওয়া হয়। পরিমাণ ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী, বয়স, ওজন, রোগীর অবস্থা ও রক্তে ট্রেস এলিমেন্টের মাত্রার উপর নির্ভর করে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি শুধু নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় উপযুক্ত ইনফিউশন তরলের সাথে মেশানো হয়। আলাদা জিংক বা সেলেনিয়াম সাপ্লিমেন্টের মতো একই উপাদানের অন্য উৎস হিসাবে ধরতে হবে, যাতে মাত্রা বেশি না হয়। কিছু উপাদান পুষ্টি মিশ্রণের অন্য উপাদানের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে, তাই ফার্মেসির নির্দেশনা মেনে মেশানো হয়।
কারা খাবেন না
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- তীব্র কোলেস্টেসিস (পিত্ত প্রবাহ বন্ধ) থাকলে, কারণ কপার ও ম্যাঙ্গানিজ পিত্তের মাধ্যমে বের হয় এবং জমে যেতে পারে।
- রক্তে কোনো উপাদানের মাত্রা বেশি থাকলে, যেমন উইলসনস ডিজিজ (কপারের আধিক্য)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। ইনফিউশনের জায়গায় ব্যথা বা জ্বালা হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত হলে বিষক্রিয়া হতে পারে: ম্যাঙ্গানিজ জমলে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে লিভারের রোগে, আর কপার বেশি হলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। অ্যালার্জি বিরল।
শিরা বরাবর ফোলা, ব্যথা বা লালভাব, র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব, কাঁপুনি, বা ত্বক বা চোখ হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন বা সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও ট্রেস এলিমেন্ট প্রয়োজন। শিরাপথে পুষ্টি দরকার হলে ডাক্তার মাত্রা ঠিক করে এটি ব্যবহার করতে পারেন।
সতর্কতা
দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে রক্তে ট্রেস এলিমেন্টের মাত্রা, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। লিভারের রোগ বা পিত্ত প্রবাহের সমস্যায় (কপার ও ম্যাঙ্গানিজ) এবং কিডনি বিকলতায় (সেলেনিয়াম, ক্রোমিয়াম ও জিংক) মাত্রা কমানো হয়। অপরিণত নবজাতক এবং পোড়া বা ফিস্টুলার মতো কারণে বেশি ক্ষতি হয় এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সাবধানে মাত্রা ঠিক করতে হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে প্রস্তুত ও প্রয়োগ করা হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত হলে ট্রেস এলিমেন্টের বিষক্রিয়া হতে পারে, যা সাপ্লিমেন্ট বন্ধ বা কমিয়ে এবং রক্তের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসা করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্যারেন্টারাল নিউট্রিশনের সংযোজন, ট্রেস এলিমেন্ট প্রস্তুতি
সংরক্ষণ
হাসপাতালের পণ্য: ২৫°C এর নিচে বা প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন। জমাবেন না। ইনফিউশনে মেশানোর পর নির্দেশনা অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।