ব্যবহার
মোমেটাসোন ফুরোয়েট একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড), যা কয়েকটি রূপে ব্যবহার হয়:
- ক্রিম, মলম বা লোশন: একজিমা, ডার্মাটাইটিস ও সোরিয়াসিসের মতো চুলকানি, লালচে ও প্রদাহযুক্ত ত্বকের সমস্যায়, যেগুলো স্টেরয়েডে ভালো হয়।
- নাকের স্প্রে: মৌসুমি ও সারা বছরের এলার্জিক রাইনাইটিস (হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ) এবং নাকের পলিপ।
- ইনহেলার: দীর্ঘমেয়াদে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে, একা অথবা ফরমোটেরল বা ইনডাক্যাটেরলের মতো দীর্ঘক্ষণ কাজ করা শ্বাসনালি প্রসারকের সাথে।
কীভাবে কাজ করে
মোমেটাসোন ত্বক, নাক বা শ্বাসনালিতে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া শান্ত করে। এতে প্রদাহ, ফোলা, চুলকানি ও শ্লেষ্মা কমে। এটি যেখানে ব্যবহার করা হয় সেখানেই কাজ করে, শরীরের বাকি অংশে খুব কম পৌঁছায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ত্বক: আক্রান্ত জায়গায় দিনে একবার পাতলা করে লাগান, যত কম সময় দরকার তত কম, সাধারণত কয়েক দিন থেকে ২ বা ৩ সপ্তাহ, বা ডাক্তারের পরামর্শমতো।
- এলার্জিক রাইনাইটিসে নাকের স্প্রে, প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী: সাধারণত দিনে একবার প্রতি নাসারন্ধ্রে ২ স্প্রে; উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে এলে প্রতি নাসারন্ধ্রে ১ স্প্রে যথেষ্ট হতে পারে। ৩ থেকে ১১ বছরের শিশু: সাধারণত দিনে একবার প্রতি নাসারন্ধ্রে ১ স্প্রে। পুরো কাজ শুরু হতে কয়েক দিন লাগতে পারে।
- নাকের পলিপ: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- ইনহেলার: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, ভালো থাকলেও প্রতিদিন। প্রতিবার ব্যবহারের পর পানি দিয়ে কুলি করে ফেলে দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব কম শোষিত হয় বলে প্রতিক্রিয়া কম। রিটোনাভির, কিটোকোনাজল ও ইট্রাকোনাজলের মতো শক্তিশালী এনজাইম-রোধী ঔষধ শরীরে মোমেটাসোনের মাত্রা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে ইনহেলারের ক্ষেত্রে, এবং স্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- মোমেটাসোন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- ত্বকের ঔষধ: চিকিৎসা না করা ত্বকের সংক্রমণ (ব্যাকটেরিয়া, ঠোঁটের ঘা বা জলবসন্তের মতো ভাইরাস, বা ছত্রাক), রোজাসিয়া, ব্রণ, বা মুখের চারপাশের র্যাশ (পেরিওরাল ডার্মাটাইটিস) থাকলে।
- নাকের স্প্রে: নাকে চিকিৎসা না করা সংক্রমণ থাকলে, বা সম্প্রতি নাকে অপারেশন বা আঘাত হলে সেটি সেরে না ওঠা পর্যন্ত।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বক: জ্বালা, চুলকানি বা হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি; দীর্ঘদিন বা বেশি ব্যবহারে ত্বক পাতলা হওয়া ও ফাটা দাগ। নাকের স্প্রে: নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও নাকে অস্বস্তি। ইনহেলার: গলা বসে যাওয়া ও মুখে ছত্রাক (সাদা দাগ)।
এসব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, গুরুতর র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট।
- ইনহেলার নেওয়ার পরপরই শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ বেড়ে যাওয়া।
- ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টির অন্য পরিবর্তন।
- নাক দিয়ে বেশি বা বারবার রক্ত পড়া, বা নাকে তীব্র ব্যথা।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। ত্বকে বড় জায়গায় বা দীর্ঘদিন লাগাবেন না। খুব কম শোষিত হয় বলে প্রয়োজনে নাকের স্প্রে ও ইনহেলার সাধারণত গ্রহণযোগ্য। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে ক্রিম লাগাবেন না।
সতর্কতা
ত্বক: ডাক্তার না বললে মুখ, কুঁচকি বা বগলে, বা ব্যান্ডেজের নিচে লাগাবেন না; শিশুদের ক্ষেত্রে আরও কম সময় ব্যবহার করুন। পরামর্শের চেয়ে বেশি বার বা বেশি দিন ব্যবহার করবেন না। ইনহেলার: এটি হঠাৎ হাঁপানির টান কমায় না; সবসময় আরামদায়ক (রিলিভার) ইনহেলার সাথে রাখুন এবং হঠাৎ বন্ধ করবেন না। দীর্ঘদিন নাকের বা ইনহেলারের স্টেরয়েড নিলে শিশুর বৃদ্ধি পরীক্ষা করান। দৃষ্টি ঝাপসা হলে চোখের ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি ব্যবহারে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ব্যবহারে শরীরের নিজস্ব স্টেরয়েড (করটিসল) তৈরি ব্যাহত হতে পারে। কিছুদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যবহার হয়ে থাকলে ডাক্তার দেখান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (ত্বকে, নাকে ও ইনহেলারে ব্যবহারযোগ্য)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। ইনহেলারের ক্যানিস্টার ফুটো করবেন না বা আগুনে ফেলবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।