ব্যবহার
মরফিন একটি শক্তিশালী ওপিওয়েড ব্যথানাশক। অন্য ব্যথানাশকে নিয়ন্ত্রণে আসে না এমন তীব্র ব্যথায় এটি ব্যবহার হয়, যেমন অপারেশন বা গুরুতর আঘাতের পরের ব্যথা, হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা ও ক্যানসারের ব্যথা। প্যালিয়েটিভ কেয়ারে শ্বাসকষ্ট কমাতেও এটি দেওয়া হয়। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত ঔষধ এবং শুধু ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
মরফিন মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের ওপিওয়েড রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়। এতে শরীর ব্যথা অনুভব করার ও সাড়া দেওয়ার ধরন বদলে যায়, ফলে ব্যথা কম তীব্র মনে হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মরফিন শুধু ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী খেতে হয়। ব্যথার তীব্রতা এবং আগে ওপিওয়েড খেয়েছেন কিনা দেখে ডাক্তার প্রত্যেকের জন্য মাত্রা ঠিক করেন। দ্রুত কাজ করা ট্যাবলেট ও ওরাল সলিউশন সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যে কাজ করে এবং প্রায়ই ৪ ঘণ্টা পরপর দেওয়া হয়; মডিফায়েড-রিলিজ (MR) ট্যাবলেট সাধারণত ১২ ঘণ্টা পরপর খেতে হয় এবং আস্ত গিলতে হয়, কখনও গুঁড়ো, ভাঙা বা চিবানো যাবে না। ওরাল সলিউশন সাথে দেওয়া সিরিঞ্জ বা কাপ দিয়ে মেপে খান। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন। নিজে থেকে বাড়তি মাত্রা খাবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না। নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ঘুম আনা ঔষধের সাথে মরফিন খেলে শ্বাস বিপজ্জনকভাবে ধীর হয়ে যেতে পারে এবং মৃত্যুও হতে পারে। এর মধ্যে আছে ডায়াজেপাম, অ্যালপ্রাজোলাম ও ক্লোনাজেপামের মতো বেনজোডায়াজেপিন, ঘুমের ঔষধ, গ্যাবাপেন্টিন ও প্রেগাবালিন, ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিসাইকোটিক, অন্য ওপিওয়েড ও মদ। এমএও ইনহিবিটরের সাথে বা তা বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে এটি খাবেন না। রিফাম্পিসিন এর কাজ কমাতে পারে। মেটোক্লোপ্রামাইড ও কিছু বিষণ্নতার ঔষধের সাথেও প্রতিক্রিয়া হতে পারে; আপনার সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- শ্বাসের গুরুতর সমস্যা, ধীর ও অগভীর শ্বাস, বা হাঁপানির তীব্র আক্রমণ চললে।
- অন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে বা অন্ত্রের নড়াচড়া থেমে গেলে।
- মাথায় আঘাত বা মাথার ভেতরে চাপ বেড়ে থাকলে, যদি না বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধান করেন।
- তীব্র মদ্যপানজনিত বিষক্রিয়ায়, বা এখন বা গত ১৪ দিনের মধ্যে এমএও ইনহিবিটর খেলে।
- মরফিনে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
খুব সাধারণ: কোষ্ঠকাঠিন্য (সাধারণত ল্যাকসেটিভ লাগে), বমি বমি ভাব, বমি ও ঘুম ঘুম ভাব। সাধারণ: মাথা ঘোরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘাম, চুলকানি, বিভ্রান্তি ও প্রস্রাব করতে অসুবিধা।
শ্বাস ধীর বা অগভীর হলে, খুব ঘুম ঘুম ভাব বা জাগানো না গেলে, চোখের মণি খুব ছোট (বিন্দুর মতো) হলে, ঠোঁট নীল হলে, অজ্ঞান হলে, পেটে ব্যথা ও ফোলাসহ তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য হলে, অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন বা জরুরি সেবায় ফোন করুন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা হয়। গর্ভাবস্থার শেষদিকে নিয়মিত খেলে নবজাতকের উইথড্রয়াল লক্ষণ দেখা দিতে পারে, আর প্রসবের সময় দিলে শিশুর শ্বাস ধীর হতে পারে। মরফিন বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে ঘুমান্ত করতে বা তার শ্বাস ধীর করতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে কিনা তা ডাক্তার ঠিক করবেন, এবং শিশুকে কড়া নজরে রাখতে হবে।
সতর্কতা
দীর্ঘদিন ব্যবহারে ঔষধের প্রতি সহনশীলতা ও নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। এটি তালাবন্ধ করে রাখুন, কখনও অন্যকে দেবেন না, এবং অব্যবহৃত ঔষধ ফার্মেসিতে ফেরত দিন। বয়স্ক, কিডনি বা লিভারের রোগ (কম মাত্রা লাগে), নিম্ন রক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, প্রোস্টেট বড় হওয়া, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া (স্লিপ অ্যাপনিয়া) ও ফুসফুসের রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন। মদ খাবেন না। এটি ঘুম ঘুম ভাব আনতে পারে, তাই প্রভাব পড়লে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে চোখের মণি বিন্দুর মতো ছোট হওয়া, শ্বাস খুব ধীর বা বন্ধ হওয়া, প্রচণ্ড ঘুম ঘুম ভাব, ঠান্ডা ও ঘামে ভেজা ত্বক, অজ্ঞান হওয়া এবং মৃত্যু হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করুন। চিকিৎসকেরা ন্যালক্সোন দিয়ে এর প্রভাব উল্টে দিতে পারেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
শক্তিশালী ওপিওয়েড ব্যথানাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে, তালাবন্ধ জায়গায় শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। ওরাল সলিউশন খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।