ব্যবহার
মাল্টিমিনারেল সাধারণত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি৩ এর সাথে মিলিয়ে হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ব্যবহার হয়। ক্যালসিয়াম ও খনিজের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়, অস্টিওপোরোসিসে, গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বয়স্কদের এবং খাবারে পুষ্টি কম থাকলে এটি দেওয়া হয়। অস্টিওপোরোসিসের অন্য ঔষধের সাথেও ডাক্তার এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
ক্যালসিয়াম হাড়ের মূল উপাদান, আর ভিটামিন ডি৩ অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও বোরনের মতো খনিজ হাড়, মাংসপেশি ও স্নায়ু তৈরি ও ঠিক রাখার এনজাইমগুলোকে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার ১টি ট্যাবলেট খাবারের সাথে, বা প্যাকেট অথবা ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- এফারভেসেন্ট ট্যাবলেট: এক গ্লাস পানিতে পুরোপুরি গলিয়ে তারপর পান করুন।
- নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না, এবং পরামর্শ ছাড়া অন্য ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি এর সাথে খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ক্যালসিয়াম ও খনিজ ডক্সিসাইক্লিনসহ টেট্রাসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিনসহ কুইনোলোন, লেভোথাইরক্সিন, আয়রন ও অ্যালেন্ড্রোনেটের শোষণ কমায়। এগুলো আলাদা সময়ে খান, সাধারণত অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে, বা ডাক্তারের পরামর্শমতো।
- হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড ডাইউরেটিক রক্তে ক্যালসিয়াম বাড়াতে পারে।
- ক্যালসিয়াম বেশি হলে ডিগক্সিনের সাথে হৃৎস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- রক্তে বা প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে।
- ক্যালসিয়ামের কিডনি পাথর বা কিডনির গুরুতর রোগ থাকলে।
- শরীরে ভিটামিন ডি অতিরিক্ত থাকলে।
- কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: বারবার বমি, তীব্র পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব, বিভ্রান্তি বা খুব দুর্বলতার মতো ক্যালসিয়াম বেশি হওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়; অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ক্যালসিয়ামের বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রায়ই দেওয়া হয়। ডাক্তার যে মাত্রা বলেন শুধু সেটুকু খান, এবং পরামর্শ ছাড়া অন্য ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি যোগ করবেন না।
সতর্কতা
- কিডনির রোগ, আগে কিডনি পাথর হয়ে থাকলে বা সারকয়ডোসিসে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- এফারভেসেন্ট ট্যাবলেটে সোডিয়াম থাকে; লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ থাকলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- দীর্ঘদিন খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম পরীক্ষা লাগতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে বমি বমি ভাব, বমি, পিপাসা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি এবং কদাচিৎ কিডনির ক্ষতি হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খনিজ ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট (ক্যালসিয়াম প্রস্তুতি)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, কৌটা শক্ত করে বন্ধ রেখে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।