ব্যবহার
এটি কিশোরীদের জন্য তৈরি মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল সাপ্লিমেন্ট। বেড়ে ওঠার বছরগুলোতে ও মাসিক শুরু হওয়ার সময়ে বাড়তি চাহিদা পূরণে এবং অপর্যাপ্ত বা অনিয়মিত খাবার, ডায়েটিং, বেশি মাসিক, অসুস্থতা বা সেরে ওঠার সময় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি প্রতিরোধ বা পূরণে এটি ব্যবহৃত হয়। এতে সাধারণত ভিটামিন এ, সি, ডি, ই ও বি কমপ্লেক্স ফলিক এসিডসহ, এবং আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়োডিনের মতো খনিজ থাকে। এটি সুষম খাবারের বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
বৃদ্ধি, হাড় গঠন, রক্ত তৈরি, রোগ প্রতিরোধ, শক্তি, ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য এবং হরমোনের স্বাভাবিক কাজের জন্য অল্প পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ দরকার। আয়রন ও ফলিক এসিড মাসিকে হারানো আয়রন পূরণ করে ও রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে; ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি বাড়ন্ত হাড়কে সহায়তা করে; জিংক এবং ভিটামিন এ, সি ও ই রোগ প্রতিরোধ ও ত্বককে সহায়তা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সাধারণত দিনে ১টি ট্যাবলেট খাবারের পর এক গ্লাস পানিসহ, অথবা লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী। সুপারিশকৃত দৈনিক মাত্রার বেশি খাবেন না। খাবারের সাথে খেলে পেটের অস্বস্তি কম হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, ডক্সিসাইক্লিন ও টেট্রাসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক এবং থাইরয়েডের ঔষধ লেভোথায়রক্সিন: আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম এদের শোষণ কমায়; অন্তত ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- অ্যান্টাসিড, চা, কফি ও দুধ আয়রনের শোষণ কমাতে পারে।
- অন্য ভিটামিন বা খনিজ সাপ্লিমেন্ট: কিছু উপাদান (বিশেষ করে ভিটামিন এ, ডি ও আয়রন) বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি।
- ওয়ারফারিন: ভিটামিন কে থাকলে এর কার্যকারিতা বদলাতে পারে।
কারা খাবেন না
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমার রোগ (হিমোক্রোমাটোসিস, হিমোসিডারোসিস) বা থ্যালাসেমিয়ার মতো বারবার রক্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, যদি না চিকিৎসক পরামর্শ দেন।
- রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি বা ভিটামিন এ বা ডি অতিরিক্ত থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। হালকা বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া এবং আয়রনের কারণে কালচে পায়খানা হতে পারে। রাইবোফ্লাভিনের কারণে প্রস্রাব উজ্জ্বল হলুদ হতে পারে, এটি ক্ষতিকর নয়।
গুরুতর অ্যালার্জি (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট) হলে, অথবা কোনো শিশু কয়েকটি ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন, কারণ শিশুদের আয়রন বিষক্রিয়া খুব বিপজ্জনক হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এই পণ্য কিশোরীদের জন্য তৈরি। গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেই সময়ের জন্য তৈরি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করুন, কারণ ফলিক এসিড, আয়রন ও ভিটামিন এ এর প্রয়োজনীয় পরিমাণ আলাদা।
সতর্কতা
পরামর্শ ছাড়া অন্য মাল্টিভিটামিনের সাথে একসাথে খাবেন না। কিডনি রোগ, থ্যালাসেমিয়া বা রক্তের অন্য রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান। খুব বেশি মাসিক বা ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসক দেখান। ছোট শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একসাথে অনেক ট্যাবলেট খেলে বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে, এবং আয়রন বিষক্রিয়া গুরুতর হতে পারে, বিশেষ করে ছোট শিশুদের। দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন এ বা ডি খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত সেবনের পর দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট; মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।