ব্যবহার
শিশুদের মাল্টিভিটামিন হলো শিশু ও বাচ্চাদের জন্য তৈরি সিরাপ বা ড্রপ। এতে সাধারণত ভিটামিন এ, ডি, ই ও সি এবং থায়ামিন (বি১), রাইবোফ্লাভিন (বি২), নায়াসিন, পাইরিডক্সিন (বি৬) এর মতো বি ভিটামিন এবং পণ্যভেদে বি১২ বা অন্য পুষ্টি থাকে। কম খাওয়া বা খুঁতখুঁতে শিশুদের ভিটামিনের ঘাটতি প্রতিরোধ বা পূরণে, অসুখের সময় ও পরে, দ্রুত বৃদ্ধির সময় এবং চিকিৎসক অতিরিক্ত ভিটামিনের পরামর্শ দিলে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ভিটামিন হলো এমন পুষ্টি যা শরীরের অল্প পরিমাণে দরকার, কিন্তু শরীর যথেষ্ট তৈরি করতে পারে না। ভিটামিন এ দৃষ্টি, ত্বক ও রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে; ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে; ভিটামিন সি ক্ষত সারানো ও আয়রন শোষণে সাহায্য করে; ভিটামিন ই কোষ রক্ষা করে; আর বি ভিটামিন খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করে এবং স্নায়ু ও রক্তকে সমর্থন করে। মাল্টিভিটামিন খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শিশুর বয়স অনুযায়ী লেবেলে লেখা মাত্রা দিন, সাথে দেওয়া ড্রপার বা মাপার কাপ দিয়ে, রান্নাঘরের চামচ দিয়ে নয়। ড্রপ সাধারণত দিনে একবার সরাসরি মুখে বা অল্প দুধ বা খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়; সিরাপ সাধারণত দিনে একবার। নির্ধারিত মাত্রার বেশি দেবেন না, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন এ ও ডি যুক্ত দুটি পণ্য একসাথে দেবেন না। লেবেলে বলা থাকলে ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্য ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট, কঁড লিভার অয়েল বা ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার ভিটামিন এ ও ডি এর মোট পরিমাণ বাড়ায়।
- ভিটামিন কিছু ঔষধকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমন বেশি পাইরিডক্সিন লেভোডোপার কার্যকারিতা কমাতে পারে এবং ফলিক অ্যাসিড ফেনিটয়েনের মাত্রা কমাতে পারে; নিয়মিত ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
- পণ্যে আয়রন বা জিংক থাকলে কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণ কমাতে পারে; পরামর্শমতো সময়ের ফাঁক রাখুন।
কারা খাবেন না
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন এ বা ডি, বা রক্তে উচ্চ ক্যালসিয়াম থাকলে।
- কিছু বিরল বিপাকীয় রোগসহ যেসব অবস্থায় চিকিৎসক অতিরিক্ত ভিটামিন নিষেধ করেছেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নির্ধারিত মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। কিছু শিশুর হালকা পেটের অস্বস্তি, বমিভাব, পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। রাইবোফ্লাভিনের কারণে প্রস্রাব উজ্জ্বল হলুদ হতে পারে, যা ক্ষতিকর নয়।
কদাচিৎ অ্যালার্জি হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি ভিটামিন এ বা ডি দিলে ক্ষুধামন্দা, বমি, খিটখিটে ভাব, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত পিপাসা এবং ভিটামিন ডি এর ক্ষেত্রে রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যেতে পারে।
শিশুর মুখ বা ঠোঁট ফোলাসহ র্যাশ, শ্বাসকষ্ট হলে, অথবা শিশু অনেকখানি পণ্য খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে আয়রনযুক্ত হলে, দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এই পণ্য শিশুদের জন্য তৈরি। গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মায়েরা চিকিৎসকের পরামর্শমতো গর্ভাবস্থা বা দুধ খাওয়ানোর জন্য তৈরি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করবেন এবং গর্ভাবস্থায় বেশি মাত্রার ভিটামিন এ এড়িয়ে চলবেন।
সতর্কতা
মাল্টিভিটামিন বৈচিত্র্যপূর্ণ সুষম খাবারের বিকল্প নয়। লেবেলে সঠিক উপাদান এবং আয়রন, চিনি বা অন্য উপাদান আছে কি না দেখে নিন। অপরিণত শিশু, ১ মাসের কম বয়সী শিশু বা কিডনি বা লিভারের রোগে আক্রান্ত শিশুকে দেওয়ার আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন। সব ভিটামিন পণ্য শিশুদের নাগালের বাইরে এবং শিশু-নিরাপদ মুখবন্ধ করে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একসাথে অনেকখানি খেলে বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথা হতে পারে। আয়রনযুক্ত পণ্য বেশি খেলে ছোট শিশুদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করুন এবং বোতলটি সাথে নিয়ে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট; শিশুদের মাল্টিভিটামিন প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে, মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন। জমাবেন না। খোলার পর লেবেলে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।