ব্যবহার
ভিটামিন বি কমপ্লেক্সে কয়েক ধরনের বি ভিটামিন থাকে, সাধারণত থায়ামিন (বি১), রাইবোফ্লাভিন (বি২), নিকোটিনামাইড (বি৩), প্যান্টোথেনিক এসিড (বি৫), পাইরিডক্সিন (বি৬) এবং কখনো কখনো ভিটামিন বি১২। অপুষ্টি, মদ্যপান, দীর্ঘ অসুস্থতা, অপারেশনের পর সেরে ওঠা, গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান, ডায়রিয়া বা শোষণজনিত সমস্যায় বি ভিটামিনের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। যারা মুখে খেতে পারেন না বা দ্রুত প্রয়োজন, তাদের জন্য হাসপাতালে ইনজেকশন ও শিরায় দেওয়ার রূপ ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
বি ভিটামিনগুলো শরীরের অনেক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সহায়ক (কোএনজাইম) হিসেবে কাজ করে। এগুলো খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর, স্নায়ু ও ত্বক সুস্থ রাখা, লোহিত কণিকা তৈরি এবং মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজে সাহায্য করে। ঘাটতি পূরণ হলে ক্লান্তি, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাটা ও হাত-পায়ে ঝিনঝিনির মতো উপসর্গ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট, ক্যাপসুল বা সিরাপ: লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী খান, সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার খাবারের পর। ইনজেকশন ও শিরায় দেওয়ার রূপ শুধু চিকিৎসক বা নার্স প্রেসক্রাইব করা মাত্রা ও বিরতিতে দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সুপারিশকৃত পরিমাণের বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- লেভোডোপা: কার্বিডোপা ছাড়া লেভোডোপা খেলে পাইরিডক্সিন (বি৬) এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- ফেনিটোইন ও ফেনোবারবিটাল: উচ্চ মাত্রার বি৬ এদের মাত্রা কমাতে পারে।
- মদ, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, মেটফরমিন, অ্যাসিড কমানোর ঔষধ ও খিঁচুনির ঔষধ বি ভিটামিনের মাত্রা কমাতে পারে।
- ক্লোর্যামফেনিকল ভিটামিন বি১২ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- কোনো বি ভিটামিন বা অন্য উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে (থায়ামিন ইনজেকশনে অ্যালার্জি বিরল হলেও গুরুতর হতে পারে)।
- কারণ না জেনে রক্তস্বল্পতায় বি১২যুক্ত পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে বি১২ বা ফলিক এসিডের ঘাটতি আড়ালে পড়তে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বি কমপ্লেক্স সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। প্রস্রাব উজ্জ্বল হলুদ হওয়া (রাইবোফ্লাভিনের কারণে) ক্ষতিকর নয়। হালকা বমিভাব, পেটের অস্বস্তি বা মুখ লাল হওয়া হতে পারে। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে। দীর্ঘদিন খুব উচ্চ মাত্রায় পাইরিডক্সিন খেলে স্নায়ুর ক্ষতি ও অবশ ভাব হতে পারে।
বিশেষ করে ইনজেকশনের পর মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ বা অজ্ঞান হয়ে পড়লে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সাধারণ সুপারিশকৃত পরিমাণে বি ভিটামিন গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে নিরাপদ এবং প্রায়ই প্রয়োজনীয়। চিকিৎসক না বললে উচ্চ মাত্রার পণ্য এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
সাপ্লিমেন্ট সুষম খাবারের বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রায় খেলে চিকিৎসককে জানান। অ্যালার্জির চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে এমন জায়গায় প্রশিক্ষিত কর্মীর ধীরে ইনজেকশন দেওয়া উচিত। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশিরভাগ বি ভিটামিন পানিতে দ্রবণীয় এবং অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবে বের হয়ে যায়, তাই গুরুতর মাত্রাতিরিক্ত সেবন কম হয়। খুব বেশি বা দীর্ঘদিন খেলে স্নায়ুর উপসর্গ (বি৬) বা মুখ লাল হওয়া (নিকোটিনামাইড) হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন প্রস্তুতি; ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।