ব্যবহার
এটি একটি মাল্টিভিটামিন প্রস্তুতি, যাতে পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (বি গ্রুপ ও ভিটামিন সি) এবং চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (এ, ডি, ই এবং কখনো কে) দুটোই থাকে। অপর্যাপ্ত খাবার, অসুস্থতা, অস্ত্রোপচারের পর সেরে ওঠা, অরুচি, বাড়তি চাহিদা বা শোষণ কমে যাওয়ার কারণে ভিটামিনের ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
প্রতিটি ভিটামিনের আলাদা কাজ আছে। বি ভিটামিন খাবার থেকে শক্তি তৈরি করে এবং স্নায়ু ও রক্তকণিকা ভালো রাখে; ভিটামিন সি ক্ষত সারাতে ও রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে; ভিটামিন এ দৃষ্টি ও ত্বক ভালো রাখে; ভিটামিন ডি হাড়ের জন্য ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে; ভিটামিন ই কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ঘাটতি পূরণ হলে এসব কাজ স্বাভাবিকভাবে চলে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট, ক্যাপসুল বা সিরাপ সাধারণত দিনে ১ বার খাবারের পর খাওয়া হয়। এ ধরনের কিছু পণ্য ইনজেকশন বা ইনফিউশন; এগুলো চিকিৎসক বা নার্স নির্ধারিত মাত্রায় দেন। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ভিটামিন কে ওয়ারফারিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে। বেশি মাত্রার ভিটামিন বি৬ লিভোডোপার কার্যকারিতা কমাতে পারে। ফলিক অ্যাসিড ফেনিটয়েনের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। পরামর্শ ছাড়া একসাথে অন্য ভিটামিন এ বা ডি সাপ্লিমেন্ট খাবেন না। কিছু খিঁচুনির ঔষধ ও অরলিস্ট্যাট ভিটামিনের মাত্রা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- শরীরে আগে থেকেই ভিটামিন এ বা ডি বেশি থাকলে, অথবা রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে
- গুরুতর কিডনি রোগে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। হালকা বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, স্বাদ বদলে যাওয়া এবং প্রস্রাব উজ্জ্বল হলুদ হওয়া (ভিটামিন বি২ এর কারণে, ক্ষতিকর নয়) হতে পারে। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা মুখ লাল হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ হলে, বা ইনজেকশনের সময় বা পরে অজ্ঞান হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্বাভাবিক দৈনিক মাত্রা সাধারণত নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় বেশি মাত্রার ভিটামিন এ এড়িয়ে চলুন, কারণ অতিরিক্ত হলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। গর্ভবতী নারীদের গর্ভাবস্থার জন্য তৈরি পণ্য ব্যবহার করাই ভালো; চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
পরামর্শ ছাড়া অন্য মাল্টিভিটামিনের সাথে একসাথে খাবেন না, কারণ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (এ, ডি, ই, কে) শরীরে জমে থাকে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন; আয়রনযুক্ত পণ্য তাদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে বা রক্ত পাতলা করার ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি বা দীর্ঘদিন অতিরিক্ত খেলে ভিটামিন এ বা ডি এর বিষক্রিয়া হতে পারে: মাথাব্যথা, বমিভাব, বমি, ঝাপসা দেখা, পিপাসা, দুর্বলতা, হাড়ে ব্যথা বা বিভ্রান্তি। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন প্রস্তুতি (মাল্টিভিটামিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।