ব্যবহার
মাইকোফেনোলিক অ্যাসিড একটি ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট, অর্থাৎ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজ কমিয়ে দেয় এমন ঔষধ। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর শরীর যেন নতুন কিডনিকে প্রত্যাখ্যান না করে, সেজন্য অন্য ঔষধের সাথে এটি ব্যবহার হয়। কখনো কখনো লুপাসজনিত কিডনি রোগের মতো কিছু অটোইমিউন রোগেও চিকিৎসক এটি দেন।
কীভাবে কাজ করে
লিম্ফোসাইট নামের শ্বেত রক্তকণিকার বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় একটি এনজাইমকে এটি বাধা দেয়। সক্রিয় লিম্ফোসাইট কমে গেলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নতুন অঙ্গকে আক্রমণ করার সম্ভাবনা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রতিস্থাপন চিকিৎসকের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী খান; প্রত্যেক রোগীর জন্য মাত্রা আলাদা এবং রক্ত পরীক্ষায় তা মিলিয়ে দেখা হয়। ডিলেইড-রিলিজ ট্যাবলেট ভাঙা, চিবানো বা গুঁড়া না করে পুরোটা গিলে খেতে হয়, সাধারণত দিনে ২ বার খালি পেটে (খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে)। চিকিৎসক না বললে মাইকোফেনোলেট মোফেটিলের সাথে অদলবদল করবেন না, কারণ দুটির মাত্রা এক নয়। নিজে থেকে কখনো বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ম্যাগনেসিয়াম বা অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড ও কোলেস্টাইরামিন এর শোষণ কমায়। জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলতে হবে। অ্যাজাথায়োপ্রিন, অ্যাসাইক্লোভির, গ্যানসাইক্লোভির, রিফামপিসিন, সেভেলামার বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- মাইকোফেনোলিক অ্যাসিড বা মাইকোফেনোলেট মোফেটিলে অ্যালার্জি থাকলে
- গর্ভাবস্থায়, যদি না অন্য কোনো উপযুক্ত চিকিৎসা না থাকে
- গর্ভধারণে সক্ষম নারী যিনি নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করছেন না
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, শ্বেত বা লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়া এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়া সাধারণ। দীর্ঘদিন ব্যবহারে কিছু ক্যান্সারের, বিশেষ করে ত্বকের ক্যান্সার ও লিম্ফোমার ঝুঁকি বাড়ে।
জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, তীব্র ডায়রিয়া, কিংবা নতুন করে বিভ্রান্তি, দুর্বলতা বা হাঁটা ও কথা বলায় সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভপাত ও গুরুতর জন্মগত ত্রুটি ঘটাতে পারে। শুরু করার আগে নারীদের গর্ভাবস্থা পরীক্ষা নেগেটিভ হতে হবে এবং চিকিৎসার সময় ও বন্ধের পর ৬ সপ্তাহ কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। পুরুষদের চিকিৎসার সময় ও পরে ৯০ দিন কনডম ব্যবহার করা উচিত। এটি খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার। রোদ কম লাগান ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে সংক্রমিত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসার সময় ও পরে ৬ সপ্তাহ রক্তদান করবেন না। পাকস্থলীর আলসার বা বিরল বংশগত এনজাইম সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র ডায়রিয়া, বমি এবং রক্তকণিকা কমে গিয়ে সংক্রমণের বড় ঝুঁকি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট (অ্যান্টিমেটাবোলাইট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মূল প্যাকেটে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।