ব্যবহার
নাফটিড্রোফিউরিল অক্সালেট পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার (পেরিফেরাল আর্টারিয়াল ডিজিজ) উপসর্গ কমাতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে ইন্টারমিটেন্ট ক্লডিকেশনে: হাঁটার সময় পায়ের ডিম বা উরুতে খিঁচুনির মতো ব্যথা, যা বিশ্রাম নিলে কমে যায়। কিছু দেশে বয়স্কদের মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়াজনিত কিছু সমস্যাতেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
নাফটিড্রোফিউরিল রক্তনালি ও প্লেটলেটের এক ধরনের সেরোটোনিন রিসেপ্টর (5-HT2) বন্ধ করে, ফলে রক্তনালি শিথিল থাকে এবং প্লেটলেট জমাট বাঁধা কমে। রক্ত সরবরাহ কম থাকলে এটি পেশি ও স্নায়ুকোষকে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ আরও ভালোভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে। এসব প্রভাবে ব্যথা শুরু হওয়ার আগে হাঁটার দূরত্ব বাড়তে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে ৩ বার ১০০ mg থেকে ২০০ mg। ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট আস্ত অবস্থায় পূর্ণ এক গ্লাস পানি দিয়ে, খাবারের সময় বা খাবারের ঠিক পরে, বসে বা দাঁড়িয়ে খাবেন। সেবনের পরপরই শুয়ে পড়বেন না, কারণ ঔষধ খাদ্যনালিতে আটকে গেলে জ্বালা করতে পারে। সাধারণত প্রায় ৩ মাস পর হাঁটার উন্নতি যাচাই করা হয়; উপকার না হলে চিকিৎসক ঔষধ বন্ধ করতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- বিটা ব্লকার বা ডিগক্সিনের মতো হৃৎস্পন্দন ধীর করে বা ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধের সাথে সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।
- রক্তনালি প্রসারক বা রক্তচাপ কমানোর অন্য ঔষধ এর প্রভাব বাড়াতে পারে।
- প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা ও ভেষজসহ সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- নাফটিড্রোফিউরিল বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- প্রস্রাবে অক্সালেটের মাত্রা বেশি (হাইপারঅক্সালুরিয়া) বা বারবার ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর হলে।
- গুরুতর হার্ট ফেইলিওর, হার্ট ব্লক বা খুব ধীর হৃৎস্পন্দন থাকলে (কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, পেটব্যথা, বদহজম, ডায়রিয়া ও ত্বকে র্যাশ। কদাচিৎ খাদ্যনালিতে জ্বালা বা ঘা, যকৃতের সমস্যা বা কিডনিতে পাথর হতে পারে।
ঔষধ খাওয়ার পর গিলতে ব্যথা বা বুকে ব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, পাঁজর বা পিঠের পাশে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, তীব্র র্যাশ, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নাফটিড্রোফিউরিলের নিরাপত্তা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য নেই। চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে না করলে সাধারণত এটি এড়িয়ে চলা হয়।
সতর্কতা
- সবসময় পর্যাপ্ত পানি দিয়ে খাবেন এবং প্রতিবার সেবনের পর কিছুক্ষণ সোজা থাকবেন।
- কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত হাঁটা এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- যকৃৎ বা কিডনির রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে হৃৎস্পন্দনের ছন্দে সমস্যা ও খিঁচুনি হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পেরিফেরাল ভাসোডাইলেটর, সেরোটোনিন (5-HT2) রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।