ব্যবহার
- সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়াজনিত মূত্রনালির সংক্রমণে, প্রধানত সাধারণ মূত্রথলির সংক্রমণে।
- অন্ত্রের কিছু সংক্রমণে, যেমন ব্যাসিলারি আমাশয় (শিগেলোসিস), যেখানে স্থানীয় নির্দেশনা ও পরীক্ষায় দেখা যায় এটি এখনও কাজ করে।
অনেক ব্যাকটেরিয়া এখন ন্যালিডিক্সিক অ্যাসিডে প্রতিরোধী, তাই ডাক্তার অন্য অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
ন্যালিডিক্সিক অ্যাসিড একটি পুরোনো কুইনোলোন জাতীয় জীবাণুনাশক। ব্যাকটেরিয়ার জিনগত উপাদান কপি করতে যে এনজাইম (ডিএনএ জাইরেজ) লাগে, এটি তা আটকে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। প্রস্রাবে এর মাত্রা বেশি থাকে, তাই এটি মূলত প্রস্রাবের সংক্রমণে ব্যবহার হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, হঠাৎ হওয়া মূত্রনালির সংক্রমণ: সাধারণত ১ g দিনে চারবার (প্রায় প্রতি ৬ ঘণ্টায়) ৭ দিন, বা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণে ডাক্তার কম মাত্রা দিতে পারেন, যেমন ৫০০ mg দিনে চারবার।
শিশু: মাত্রা ওজন অনুযায়ী এবং শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেওয়া হয়। ৩ মাসের কম বয়সী শিশুদের দেওয়া হয় না।
এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। সাসপেনশন খাওয়ার আগে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টাসিড এবং আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত পণ্য এর শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান। ন্যালিডিক্সিক অ্যাসিড ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে। নাইট্রোফুরানটয়েনের সাথে খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি এর কাজে বাধা দেয়। প্রোবেনেসিড এর মাত্রা বদলে দিতে পারে। আপনি যে সব ঔষধ, ভিটামিন ও ভেষজ পণ্য খান, তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ন্যালিডিক্সিক অ্যাসিড বা অন্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে
- খিঁচুনির (মৃগী রোগ) ইতিহাস থাকলে
- পরফাইরিয়া রোগে
- ৩ মাসের কম বয়সী শিশু
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, র্যাশ ও চুলকানি।
অন্যান্য: রোদে ত্বকে প্রতিক্রিয়া, ঝাপসা দেখা বা রং চেনায় পরিবর্তন, এবং G6PD ঘাটতি থাকলে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়া।
খিঁচুনি হলে; মুখ বা গলা ফুলে গেলে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে; তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হলে; টেন্ডনে (রগে) ব্যথা বা ফোলা হলে; ফ্যাকাশে ত্বকের সাথে গাঢ় প্রস্রাব হলে; অথবা শিশুর তীব্র মাথাব্যথা, বমি বা মাথার নরম অংশ (তালু) ফুলে উঠলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে ও প্রসবের কাছাকাছি সময়ে, সাধারণত ন্যালিডিক্সিক অ্যাসিড এড়ানো হয়; ডাক্তার নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নেবেন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে শিশু নবজাতক হলে বা তার G6PD ঘাটতি থাকলে।
সতর্কতা
- চিকিৎসার সময় কড়া রোদ ও সানল্যাম্প এড়িয়ে চলুন।
- লিভার বা কিডনির রোগ, G6PD ঘাটতি বা মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- ঘুম ঘুম ভাব বা দেখার সমস্যায় গাড়ি বা যন্ত্র চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
- বয়স্কদের টেন্ডনের সমস্যার ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমি, বিভ্রান্তি, দেখার সমস্যা ও খিঁচুনি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কুইনোলোন জীবাণুনাশক (মূত্রনালির সংক্রমণের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।